রাজ্য হারিয়ে দিল্লিমুখী মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- রয়টার্স
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখে এবার জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরালো করার কৌশল নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির সূত্র জানায়, আগামী কয়েকদিনে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী শিবিরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন দলের প্রতিনিধিরা। সংসদ-সংক্রান্ত বৈঠক থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন— সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে থাকা তৃণমূলের সূত্র জানায়, দলের এমপি সৌগত রায় ও সাগরিকা ঘোষকে জাতীয় স্তরের একাধিক বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই কেন্দ্রের উদ্যোগে ডাকা সর্বদল বৈঠক এবং ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
একই দিনে জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিতে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আব্দুল্লাহর ডাকা কর্মসূচিতেও তৃণমূলের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের চলমান অনশনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘পার্লামেন্ট চলো’ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন সাগরিকা ঘোষ।
সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন ঘিরে তৃণমূল ইতিমধ্যেই সরব। দলের এমপি দোলা সেন সম্প্রতি যন্তর মন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখাও করেছেন। অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ফোনে তার সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অনশনরত ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার দায় কেন্দ্রকে নিতে হবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের আবহে তৃণমূলের এই সক্রিয়তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে কলকাতায় ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে সংগঠনকে চাঙা করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে উপস্থিতি বাড়িয়ে দিল্লিতেও নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে চাইছে দলটি।





