২১ জুলাইয়ের মঞ্চ নিয়ে টানাপড়েন, বিজেপির কটাক্ষের মাঝেই অনড় মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে বিকল্প স্থান নিয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। এদিকে কর্মসূচির স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তবে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্থান নিয়ে জটিলতা থাকলেও শহীদ দিবসের কর্মসূচি কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।
বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মতলা চত্বরে এরই মধ্যে অন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে একই এলাকায় আরও একটি বড় সমাবেশ হলে আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। সে কারণে ওই স্থানে তৃণমূলের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল কালীঘাট শিবিরকে হাজরা মোড়ে কর্মসূচি করার প্রস্তাব দেন। পাল্টা তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ডোরিনা ক্রসিং, এসপ্ল্যানেড পূর্ব এবং বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে সমাবেশের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর আদালত রাজ্যকে আরও একটি বিকল্প স্থান বিবেচনার সুযোগ রেখে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে নির্দেশ দেয়।
এদিকে একই দিনে ইকো পার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বললেন, ‘দম থাকলে ব্রিগেডে যান। কর্মী থাকলে ব্রিগেড ভরিয়ে দেখান।’
তবে তৃণমূলের দাবি, ২১ জুলাই তাদের কাছে শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, দলের ইতিহাস ও আবেগের প্রতীক। ১৯৯৩ সালে মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩ কর্মীর স্মরণে প্রতিবছর এই শহীদ দিবস পালন করে দল। দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মতলাই এই কর্মসূচির প্রধান কেন্দ্র।
এ বছর একই স্থানের জন্য একাধিক পক্ষ আবেদন করায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস শহীদ মিনার এলাকায় কর্মসূচির অনুমতি পেয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল গোষ্ঠী গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভার অনুমোদন পেয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ব্রিগেডে সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, শহীদ দিবস পালন বন্ধ হবে না। প্রয়োজনে ছোট পরিসরে বা বিকল্প উপায়ে হলেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। এর আগেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি বাধ্য করলে রিকশায় করেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত তিনি।
ফলে আদালতের নির্দেশ, প্রশাসনের পরবর্তী অবস্থান এবং শেষ পর্যন্ত ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।




