আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
নোংরামিতে শুরু নান্দনিকতায় শেষ

সংগৃহীত ছবি
আবারও শেষের জাদুতে জিতল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর লিওনেল মেসির অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডকে হারাল তারা। এটি ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুর্দান্ত ফিরে আসার আরেকটি গল্প। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়-আর্জেন্টিনা কেন ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা একেবারেই খেলতে বা ফুটবল উপভোগ করতে চাইল না? অথচ পিছিয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে ম্যাচের ছবিটাই বদলে দিয়েছিল।
ইংল্যান্ড ভেবেছিল রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে কেবল হিসাব-নিকাশ করেই আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে পার পেয়ে যাবে। অথচ শেষ আধঘণ্টায় লিওনেল মেসি নামের এক জাদুকরি ‘অর্কেস্ট্রা কন্ডাক্টর’-এর হাত ধরে আর্জেন্টিনা তাদের নান্দনিক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসেছিল।
ম্যাচে প্রথম ১৫ মিনিটে রূপ নিয়েছিল এক কুৎসিত, বিশৃঙ্খল হাতাহাতিতে, যেখানে ফুটবলের ছিটেফোঁটাও ছিল না। ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় প্রথম হাতাহাতি বাধে, আর এরপর প্রতিটি ফাউল বা একে অপরের সামান্য স্পর্শেই তা চলতেই থাকে।
স্পেন ও ফ্রান্সের র অপর সেমিফাইনালটির তুলনায় এটি ছিল একেবারেই আলাদা এক ম্যাচ। খেলা একই, কিন্তু খেলার ধরন ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। রেফারি যতক্ষণ পর্যন্ত সুযোগ দিচ্ছিলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত দুটি পদ্ধতিই বৈধ ছিল।
ধাক্কাধাক্কি, চ্যালেঞ্জ এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের প্রথমার্ধ শেষে রেফারি ইসমাইল এলফাত যখন বাঁশি বাজালেন, তিনিও হঠাৎ নিজেকে দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঝে আবিষ্কার করলেন। সবাই যে যার মতো চিৎকার করছিল, তবে এসবই ছিল ম্যাচের কৌশলের অংশ।
আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলতে নামে। তবে ইংল্যান্ড বিরতির পর এগিয়ে গেলে শুধু সময় নষ্ট করার খেলায় মেতে ওঠে। তাদের পুরো নজর ছিল মেসির ওপর, কারণ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রতিটি বিপজ্জনক ও পরিকল্পিত আক্রমণের সূত্রপাত ঘটছিল এই মহাতারকার পা থেকেই। কিন্তু এমন রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়া ছিল অত্যন্ত ঝুঁকির।
ইংলিশ কোচ টুখেল এক অর্থে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারলেন। তিনি রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় মাঠে নামিয়ে এবং আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের তুলে নিয়ে নিজের দলকে মানসিকভাবে ও বাস্তবে আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেন। বার্নকে নিয়ে করা তার পরীক্ষাটি এবার কাজে আসেনি।
জার্মান এই কোচ আবারও অতি-রক্ষণাত্মক মনোভাব দেখালেন এবং তাদের একমাত্র কৌশল হয়ে দাঁড়াল নিজেদের গোলপোস্ট রক্ষা করা।
ইংল্যান্ড নিজেদের গুটিয়ে নিলে আর্জেন্টিনা অলআউট আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ভক্তরা ভাবতেই পারেন, তারা যদি প্রথম মিনিট থেকেই এভাবে খেলত! ভাগ্যও আর্জেন্টিনার পক্ষে ছিল না—ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ও আরেকটি শট পোস্টে লাগে, হুলিয়ান আলভারেস একটি সহজ সুযোগ মিস করেন, মার্তিনেস পান আরও একটি সুযোগ... এই সবকিছুই ঘটেছিল যখন তারা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছিল এবং মাঠের নোংরা ফুটবল ভুলে গিয়েছিল।
সময়ের কাঁটা দ্রুত ফুরিয়ে আসছিল, আর আর্জেন্টিনা গোল পেতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছিল এবং শেষ পর্যন্ত পেয়েও গেল। মেসি নামের জাদুকরের ছোঁয়ায় আর্জেন্টিনা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাল আবারও।
ম্যাচের পরিসংখ্যান
১৫টি শট:
আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি শট নিয়েছে। ইংল্যান্ড যেখানে পুরো ম্যাচে মাত্র ৫টি শট নিতে পেরেছে।
• আক্রমণভাগে ২৩০টি পাস:
আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের সীমানায় ২৩০টি পাস খেলেছে, যেখানে ইংলিশদের পাসের সংখ্যা ছিল মাত্র ৯২।
• মেসির ২টি অ্যাসিস্ট:
তিনি আর্জেন্টিনার দুটি গোলেই সরাসরি অবদান রাখেন-এনসো ফের্নান্দেস এবং লাউতারো মার্তিনেসকে দেওয়া তার দুটি নিখুঁত পাস থেকেই গোল দুটি আসে।




