সাত ঘণ্টার মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের আট দফা পাল্টা আঘাত
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি তেহরানের
- গত এক সপ্তাহে প্রথমবার দিনের বেলায়ও বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। গত মঙ্গলবার ইরানের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা থেকে গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি ও ইরানি উপকূলে টানা সাত ঘণ্টা অভিযান চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন স্থাপনা, নৌ সক্ষমতা ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এর আগে সিস্তান-বেলুচিস্তানের বামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সাত সেনা নিহত হন। এ ছাড়া খুজেস্তানের বেসামরিক এলাকায়ও হামলা চালানো হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১১টায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আবার কার্যকর করে।
জবাবে বুধবার ভোরে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ‘অপারেশন নাসর ২’ এবং ‘সায়েকাহ’ (বজ্রপাত) অভিযানের মাধ্যমে আট দফা পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরানের আইআরজিসি ও সেনাবাহিনী। কুয়েতে মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র, প্যাট্রিয়ট কমপ্লেক্স ও হিমার্স উৎক্ষেপণ প্যাডে হামলা চালানো হয়েছে। জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন এফ-১৫, এফ-১৬, এফ-১৮, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং কৌশলগত এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের এনএসএ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার এবং শেখ ইসা ঘাঁটির বিশাল সামরিক গুদাম ও জ্বালানি ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে।
পাল্টা হামলার পাশাপাশি কুয়েত ও জর্ডানের নাগরিকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছে আইআরজিসি। কুয়েতিদের প্রতি তাদের ভালোবাসা জানিয়ে এবং জর্ডানকে ‘নবীদের বিশ্রামস্থল’ হিসেবে অভিহিত করে ইরান উভয় দেশের জনগণকে তাদের মাটি থেকে এই ‘দখলদার মহাশয়তানের বাহিনীকে’ বিতাড়িত করার আহ্বান জানিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। সেখানে আইআরজিসি ‘সতর্কতামূলক গুলি’ ছুড়ে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে দিয়েছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই তেহরান এ কৌশলগত জলপথটি বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ববাজারে তেল ও সারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ইরানকে আলোচনায় বাড়তি সুবিধা (লিভারেজ) দিচ্ছে।
এ উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল দুপুর দেড়টায় হরমুজ প্রণালির গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চালানো প্রথম দিনের বেলার বিমান হামলা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহ থেকে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা হবে। জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান তার ভূখণ্ডের প্রতি ইঞ্চি রক্ষা করবে। এর পাশাপাশি, ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো চিঠিতে জুন মাসের যুদ্ধবিরতি সমঝোতার ৪২টি দফা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা হয় সবাই পাবে, না হয় কেউই পাবে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের ব্যবহারে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহনের পথ ঝুঁকির মুখে পড়বে।




