সুগন্ধা-বাসন্ডা কি ডাম্পিং স্টেশন

নদীর পাড়ে ময়লা ফেলার কারণে দুর্গন্ধে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। ছবি: আগামীর সময়
ঝালকাঠি পৌরসভায় নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় চরম সংকটে পড়েছে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। প্রতিদিন বাজার ও বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সুগন্ধা এবং বাসন্ডা নদীর তীরবর্তী এলাকায়। এতে নদীদূষণের পাশাপাশি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।
ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পৌর খেয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগম, ‘নদীর পাড়ে ময়লা ফেলার কারণে দুর্গন্ধে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর।’
লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেনের আক্ষেপের স্বর, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাট হলে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তখন রান্নাবান্না, গোসলসহ নানা কাজে নদীর পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু নদীতে যেভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তাতে সেই পানি ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এ টি এম মেহেদী হাসান সানির ভাষ্য, ‘দূষিত পানি ও দুর্গন্ধের কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগ এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি জমে থাকা আবর্জনা মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
পরিবেশবাদীরা বলছেন, নদীতীরে এভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ঝালকাঠি গাছপালা নদী-নালা রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্কাস সিকদার বলেছেন, ‘নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে নদী ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। তবে নদী রক্ষায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ পৌরসভার কিছু উদ্যোগ ইতিবাচক। এখন জরুরি ভিত্তিতে একটি আধুনিক সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে।’
এর আগে কুনিহারী মৌজায় প্রায় পাঁচ একর জমিতে একটি সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের আপত্তির মুখে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আজও ঝালকাঠি পৌরসভা স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন জানালেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শহরের পরিচ্ছন্নতা ও নদী রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুগন্ধা নদীর তীরে ছয় ফুট উঁচু সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে বর্জ্য নদীতে ছড়িয়ে না পড়ে। তবে বর্তমানে সেই স্থানটিও প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
‘জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা পেলে দ্রুতই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে’— যোগ করেন তিনি।




