ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা হামলা, একাধিক শহরে বিস্ফোরণ

ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে বুধবার টানা ৭ ঘণ্টার হামলার পর, দ্বিতীয় দফায় সামরিক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য হুমকি হিসেবে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে এ হামলা।
হামলার পর ইরানের একাধিক শহরে পাওয়া গেছে বিস্ফোরণের খবর। দেশটির বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরাক সীমান্তবর্তী আহভাজ শহরে শোনা গেছে বিস্ফোরণের শব্দ। চলতি মাসে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিকবার মার্কিন হামলা হয়েছে আহভাজে।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চাবাহার শহরেও তিনটি বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থাটি। এর আগে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাবাহারের একটি নৌ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। এটি জেলেদের জন্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান-উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহৃত একটি বেসামরিক স্থাপনা।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের কাছাকাছি একটি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র।
ইরাকের এরবিল শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে দেশের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানকে খণ্ডবিখণ্ড করা।’
একই সঙ্গে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পরিচালনায় দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে থেকে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।
গালিবাফ বলেন, অব্যাহত রাখতে হবে ইরানিদের সশস্ত্র প্রতিরোধ। পাশাপাশি ‘জাতীয় স্বার্থ অর্জন ও সুসংহত করতে কূটনীতি ও আলোচনার উপায়ও কাজে লাগাতে হবে’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যগামী একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও। গ্রিসের এজিয়ান এয়ারলাইন্স, কানাডার এয়ার কানাডা এবং এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম অঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে নির্ধারিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তেল আবিব ও দুবাইগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে এয়ার কানাডা। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দুবাই এবং ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এরবিল ও বাগদাদে ফ্লাইট পরিচালনা করবে না এজিয়ান এয়ারলাইন্স। ২ আগস্ট পর্যন্ত বৈরুতে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে এয়ার ফ্রান্স। ১৫ জুলাই পর্যন্ত রিয়াদ, দাম্মাম ও দুবাইগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে কেএলএম। অন্যদিকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে দুবাই ও রিয়াদে ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করেছে হংকংভিত্তিক ক্যাথে প্যাসিফিক।






