ডন বেনিতোর ডন

ডন বেনিতো
স্পেনের এক্সত্রেমাদুরা অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের শহর ডন বেনিতো। প্রত্যন্ত এই অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা সহজ নয়। এই জায়গায় স্কাউটদের নজরে আসার সুযোগও কম । অবহেলিত এই অঞ্চল থেকেই একজন তরুণ স্পেনের রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন। শৈশবে তিনি যে মাঠে খেলতেন, সেই মাঠের নতুন নামকরণও এখন তার নামেই— ‘পেদ্রো পোরো’।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে স্পেনের স্বপ্নযাত্রার অন্যতম অংশীদার পোরোর জাতীয় দলে উঠে আসার গল্পটা অনুপ্রেরণার, একই সঙ্গে আবেগেরও। মা ইভা একটি সুপার মার্কেটে কাজ করতেন আর বাবা লুইস যুক্ত ছিলেন নানা ধরনের ছোট কাজে। পোরো মাত্র ১৪ বছর বয়সে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের বাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমান মাদ্রিদে । সেখানে তিনি রায়ো ভায়েকানো ক্লাবের যুব দলে যোগ দেন এবং পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে কঠোর অনুশীলন শুরু করেন। মা-বাবার ব্যস্ততা এবং আর্থিক সংকটের কারণে ফুটবলে ভবিষ্যৎ গড়তেই তিনি এত কম বয়সে একা একা বাড়ি ছাড়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ডন বেনিতোর মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্মালেও পোরোর ভাগ্য বদলে যায় মাদ্রিদে এক প্রতিনিধিদলের হয়ে খেলতে গিয়ে। সেখানেই নজরে পড়েন স্কাউটদের। শুরুতে উইঙ্গার হিসেবে খেলতেন পোরো। দুর্দান্ত গতি, শক্তিশালী শট এবং অসাধারণ দক্ষতার পাশাপাশি তাকে আলাদা করেছিল জয়ের মানসিকতা।
২০১৮-১৯ মৌসুমে জিরোনার হয়ে আলো ছড়ানোর পর ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন পোরো। ধারে স্পোর্টিংয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে স্পেন জাতীয় দলে অভিষেক হয়। মূলত পর্তুগালেই তার ক্যারিয়ারে বড় মোড় আসে। সাবেক সতীর্থ আন্তোনিও আদানের মতে, প্রতিভা আগেই ছিল, তবে লিসবনে গিয়ে আত্মবিশ্বাস ও ধারাবাহিকতা অর্জন করেন তিনি। ২০২৩ সালে টটেনহামে যোগ দিয়ে ইউরোপা লিগ জেতার পাশাপাশি রক্ষণেও হয়েছেন আরও পরিণত।
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম ভরসার নাম পোরো। টানা পাঁচ ম্যাচ ক্লিন শিটে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি শেষ ৩২-এ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষেও গোল করেন তিনি। রক্ষণ ও আক্রমণে সমান কার্যকর এই রাইট-ব্যাক কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিচ্ছেন।




