শেয়ারবাজার
নীতি-সহায়তা ও আইন সংস্কারের আশ্বাস
- বিএসইসির সঙ্গে স্টেকহোল্ডারদের বৈঠক
- আইপিও প্রক্রিয়াকে বিনিয়োগবান্ধব করা হবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানিগুলো আসতে পারছে না। উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশেরও অভাব রয়েছে। নানাভাবে আরোপ করা হয় অতিরিক্ত বিধিনিষেধ। পাশাপাশি লিস্টিংয়ে সীমিত সুযোগের মতো অসুবিধাসহ নানা সমস্যার কারণে গতি পাচ্ছে না শেয়ারবাজার।
গতকাল বুধবার বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সঙ্গে বৈঠকে উল্লিখিত সমস্যা তুলে ধরেন শেয়ার স্টেকহোল্ডাররা। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সমাধানে প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা ও আইনগত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ইফতেখার আলম আগামীর সময়কে বলেছেন, আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল এবং বিনিয়োগবান্ধব করতে কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাব জানানো হয়েছে। বিধিমালায় আইপিও অনুমোদনের জন্য ৫০ কার্যদিবস নির্ধারিত থাকলেও সেটি কতটা কার্যকর তা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে— যোগ করলেন ইফতেখার আলম।
বৈঠকে আইপিও প্রক্রিয়াকে উদ্যোক্তাবান্ধব করতে বেশ কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে আগামীর সময়কে জানিয়েছেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তার মতে, বর্তমানে একটি আইপিও সম্পন্ন হতে প্রায় দুই বছর লাগে, যা কমিয়ে ৫০-৯০ দিনে আনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অংশীদারদের মধ্যে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির পরিবর্তে ডাচ অকশন চালু, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধের বিধান শিথিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়া সমন্বিত ও সহজ করার সুপারিশ করে বলা হয়, এটি বাস্তবায়ন হলে একই ধরনের তথ্য বিভিন্ন সংস্থার কাছে বারবার জমা দিতে হবে না। পাশাপাশি নিরীক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের ওপর নির্ভরশীলতার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি কমানো যাবে।
বৈঠকে ফিক্সড প্রাইস আইপিওতে বিদ্যমান ১২৫ কোটি টাকার সীমা শিথিল, আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধে ৩০ শতাংশ সীমা পুনর্বিবেচনা, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বাইরে যোগ্য বেসরকারি কোম্পানির জন্যও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয় শেয়ার স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া রাইট ইস্যুর প্রক্রিয়া সহজ, বিদ্যমান বিধিবিধানে প্রয়োজনীয় নমনীয়তা আনা, বুকবিল্ডিংয়ের পরিবর্তে ডাচ অকশন পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকে পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলস-২০২৫ অনুযায়ী আইপিও আবেদনপ্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীবান্ধব করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে ওই বৈঠক শেষে বিএসইসি জানায়, শেয়ার স্টেকহোল্ডারদের মতামতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগকারীবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা এবং আইনগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিএসইসির এক কর্মকর্তা জানালেন, নিয়মকানুন আরও সহজ এবং বাস্তবসম্মত করা গেলে নতুন ও ভালো কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহিত হবে।
বৈঠকে বিএসইসির সব কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। অংশীজনদের মধ্যে আইসিএবি, এফআরসি, ডিএসই, সিএসই, বিএপিএলসি, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু ম্যানেজার এবং বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। পাশাপাশি বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক, পরিচালকসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




