ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ছাবিদের
- সরকারি সহায়তার প্রত্যাশা পরিবারের

ছেলের সাফল্যের আনন্দকে ছাপিয়ে গেছে তার সুস্থ হয়ে ওঠার অনিশ্চয়তায়। ছবি: আগামীর সময়
‘মা, আমি বড় হয়ে বুয়েটে পড়ব। ইঞ্জিনিয়ার হব, তুমি হবে একজন ইঞ্জিনিয়ারের মা।’ একমাত্র ছেলে ইবনে ছাবিদের মুখে এমন স্বপ্নের কথা শুনে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আশা ছিল মা-বাবার। সে স্বপ্নের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়েছে ছাবিদ। কিন্তু সেই আনন্দ এখন ম্লান। কারণ, মেধাবী এই শিক্ষার্থী লড়ছে ক্যানসারের সঙ্গে।
বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একটি শয্যায় চিকিৎসাধীন ছাবিদ। হাসপাতালেই শুয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার খবর শুনেছে সে। পরিবারের সদস্যদের চোখে তখন আনন্দের চেয়ে উদ্বেগই ছিল বেশি। কারণ, ছেলের সাফল্যের আনন্দকে ছাপিয়ে গেছে তার সুস্থ হয়ে ওঠার অনিশ্চয়তায়।
ছাবিদ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর গ্রামের আশরাফুল আলম রোকনের একমাত্র সন্তান। বর্তমানে সে ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের (আরএআরএস) উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এর আগে ২০২৫ সালে চর-সাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে এ বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলে সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা ছাবিদের বাবা আশরাফুল আলম রোকন জানিয়েছেন, ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন। সীমিত আয়ে সে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
ছাবিদের মা লিজা খাতুন বলেছেন, ‘এ সময় ছেলের স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে পড়াশোনা করার কথা। অথচ এখন বই-খাতার বদলে চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে হাসপাতালেই ছুটতে হচ্ছে। সন্তানের অসুস্থতা আমাদের পুরো পরিবারকে অসহায় করে দিয়েছে।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেছেন, ‘সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় ক্যানসার রোগীদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবার আবেদন করলে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।’




