বিলার্দোর কীর্তি ছুঁয়ে স্কালোনি বললেন ‘ভাষা হারিয়েছি’

সংগৃহীত ছবি
আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে তুললেন লিওনেল স্কালোনি। কার্লোস বিলার্দোর পর আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় কোচ হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছানোর গৌরব এখন তারও। এর আগে ১৯৮৬ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে বিলার্দোর অধীনে টানা দুবার ফাইনালে খেলেছিল আর্জেন্টিনা।
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বিলার্দোর দল। ঠিক চার বছর পর, ইতালির বিশ্বকাপে আবারও ফাইনালে উঠলেও জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের।
২০১৮ সালে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া স্কালোনি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন আরাধ্য শিরোপা। চার বছর পর, দলের মূল ভিত্তি ঠিক রেখে স্কোয়াডে কিছু নতুন মুখ যুক্ত করে আবারও দলকে ফাইনালে নিয়ে এলেন তিনি।
এই দুই কোচের ক্যারিয়ারের সাফল্যের পেছনে একটি দারুণ মিল রয়েছে—দুজনেই তাদের দল গড়েছেন ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি 'নম্বর ১০'-কে ঘিরে। বিলার্দোর ভরসা যেখানে ছিলেন ম্যারাডোনা, স্কালোনির তুরুপের তাস সেখানে মেসি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালটি জিততে স্কালোনি তাঁর পূর্বসূরিকেও ছাড়িয়ে যাবেন।
গত চার বিশ্বকাপের মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার তৃতীয় ফাইনাল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
খেলা শেষে উচ্ছ্বসিত স্কালোনি বলছিলেন,‘আমি সত্যিই নির্বাক। আমাদের দেশ আর দেশের মানুষের জন্য এটি অনেক বড় আনন্দের মুহূর্ত। এই অসাধারণ দলটিকে দেখে আমি রীতিমতো বিস্মিত। আমরা শিরোপা জেতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব, তবে আজকের ম্যাচের পর কথা বলার মতো ভাষা খুঁজে পাওয়াও কঠিন।’
রবিবার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ফাইনাল নিয়ে স্কালোনি বললেন,‘আমরা জেতার জন্য আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব। তবে আজকের এই ম্যাচের পর খেলোয়াড়েরা মাঠে যা দেখিয়েছে, তা মানুষকে বোঝানো আসলেই কঠিন। আমরা অনন্য, আর এটা কোনো অহংকার নয়। আমাদের এই মানুষগুলোই (সমর্থকেরা) আমাদের জয়ের দিকে নিয়ে গেছে।’
জাতীয় দলের হয়ে চারটি শিরোপাজয়ী (২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ) এই কোচ সবশেষে খেলোয়াড়দের একাগ্রতার প্রশংসায় বলেছেন,‘এই জার্সি গায়ে জড়িয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া উচিত, কোন কিছুই বাকি রাখা চলে না। আর আমাদের খেলোয়াড়েরা আবারও প্রমাণ করেছে যে, দেশের প্রতি বাকি সবার মতো তাদের বুকেও একই অনুভূতি আছে।’




