Agamir Somoy E-Paper
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
বন্যপ্রাণী অবমুক্ত করেন অয়ন
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় ভারত

করিডর নয়, অংশীদারিত্ব : উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

মিজোরাম (ভারত) সংবাদদাতা
agamir somoy
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০
করিডর নয়, অংশীদারিত্ব : উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

সংগৃহীত ছবি

দ্রুত বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্র। অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র ক্রমশ এশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে, নতুন করে সাজানো হচ্ছে সরবরাহ শৃঙ্খল এবং গড়ে উঠছে বিকল্প বাণিজ্যপথ। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথ আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও বড় ভূমিকা দাবি করছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভারতের ব্রিকস নেতৃত্বকে শুধু কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা যাবে না।

প্রশ্ন হলো, বিশ্ব অর্থনীতির এই পুনর্বিন্যাসে ভারতের কোন অঞ্চলগুলো নতুন বাজার, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বাণিজ্যের সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতকে আর প্রান্তিক অঞ্চল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একসময় যে ভৌগোলিক অবস্থানকে সীমাবদ্ধতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেটিই এখন অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

বাংলাদেশ, ভুটান, চীন ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত এবং বৃহত্তর আসিয়ানের কাছাকাছি অবস্থান উত্তর-পূর্ব ভারতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করেছে। ভারত যখন তার ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি আরও জোরদার করছে, তখন উত্তর-পূর্বও জাতীয় অর্থনীতির প্রান্ত থেকে সরে এসে কৌশলগত ভূগোলের কেন্দ্রে জায়গা করে নিচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে মুখ করা ভৌগোলিক অবস্থান এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

তবে ভৌগোলিক অবস্থান নিজে থেকে কোনো অঞ্চলকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে না। শুধু সড়ক, রেলপথ বা সীমান্তপথ নির্মাণ করলেই উন্নয়ন আসে না। এর জন্য প্রয়োজন স্থানীয় উৎপাদন, শিল্প, পরিষেবা, দক্ষ জনশক্তি, উদ্যোক্তা এবং শক্তিশালী বাজার।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দেশটির অর্থনৈতিক শক্তি শুধু ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল নয়। রয়েছে বৃহৎ ভোক্তা বাজার, তৈরি পোশাক, ওষুধ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া, হালকা প্রকৌশল ও পরিষেবা খাত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্রবন্দরভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধা।

তাই আগামী দিনের সম্ভাবনা শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সীমান্তের দুই পাশে থাকা দুটি স্বতন্ত্র অর্থনীতির নিজস্ব শক্তিকে আরও মজবুত করে, যেখানে প্রয়োজন ও সক্ষমতার মিল রয়েছে, সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উৎপাদনের নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলাই হতে পারে প্রকৃত সম্ভাবনা।

সবুজ অর্থনীতিও এ ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশাল বনাঞ্চল, নদী, জীববৈচিত্র্য, বাঁশ, জলসম্পদ ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনাকে ব্রিকসের উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার সহযোগিতার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ নয়, বরং সেই সম্পদের মূল্য সংযোজন করা। বাঁশ দিয়ে বহুমুখী পণ্য তৈরি, জৈব খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, জীববৈচিত্র্যভিত্তিক উদ্যোগ এবং উচ্চমূল্যের পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার মাধ্যমে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব।

আসামের চা, কৃষি, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস; ত্রিপুরার রাবার ও বাঁশ; মেঘালয়ের কৃষি ও পর্যটন; নাগাল্যান্ড ও মণিপুরের কৃষি, তাঁত ও হস্তশিল্প, প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, এসব সম্পদের কতটা মূল্য উত্তর-পূর্বের ভেতরেই তৈরি হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে কাঁচামাল বাইরে চলে যায়, প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি হয় অন্যত্র এবং বড় অংশের মূল্য সংযোজনও ঘটে উত্তর-পূর্বের বাইরে। ফলে সম্পদ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় অর্থনীতিতে তার পূর্ণ সুফল জমা হয় না।

এ কারণে উত্তর-পূর্বের শিল্পনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, স্থানীয় মূল্য সংযোজনও বাড়ানো। কৃষির সঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, চায়ের সঙ্গে উন্নত ব্র্যান্ডিং, বাঁশ ও বেতের সঙ্গে আধুনিক নকশা, হস্তশিল্পের সঙ্গে বৃহত্তর বিপণন এবং পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোগকে যুক্ত করা গেলে একই সম্পদ থেকে আরও বেশি অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করা সম্ভব। এতে বাড়বে কর্মসংস্থান, স্থানীয় আয় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের পরিসর।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য এই ভৌগোলিক সুবিধার গুরুত্ব আলাদা। ভারতের এ অঞ্চল সমুদ্রবন্দর থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে। ফলে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলে নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে পরিবহণের সময় ও ব্যয় কমতে পারে।

আরও পড়ুন

ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরের শেষ দিনে ঐক্যের বার্তা, বাণিজ্যে স্বস্তি

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তবে সম্পর্কটিকে একমুখী করে দেখলে ভুল হবে। বাংলাদেশ শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের সম্ভাব্য সমুদ্রদ্বার নয়, উত্তর-পূর্বও বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হতে পারে। এ অঞ্চলের জনসংখ্যা, শহরগুলোর সম্প্রসারণ এবং ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা বাংলাদেশের শিল্পপণ্য, খাদ্যপণ্য, পরিষেবা ও অন্যান্য পণ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ সম্পর্কটি হওয়া উচিত বন্দর থেকে সীমান্ত, সীমান্ত থেকে বাজার এবং বাজার থেকে উৎপাদনের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা।

এই সম্ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে যোগাযোগ। তবে যোগাযোগ বলতে শুধু সড়ক, রেলপথ বা জলপথ বোঝালে চলবে না। একটি পণ্য সীমান্ত পেরিয়ে বন্দরে পৌঁছাতে হলে প্রয়োজন দ্রুত শুল্ক প্রক্রিয়া, পণ্য পরীক্ষা, গুদাম, শীতল সংরক্ষণ, ব্যাংকিং, বিমা এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহণ ব্যবস্থা। সীমান্তে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব হলে নতুন রাস্তা বা বন্দর ব্যবহারের সুবিধার বড় অংশই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই আন্তসীমান্ত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু কতগুলো নতুন পথ তৈরি হলো, তার ওপর নয়; সেই পথ দিয়ে ব্যবসা কতটা সহজ, দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য হলো, তার ওপরও।

এখানেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। যেসব জায়গাকে এতদিন শুধু সীমান্তচৌকি বা যাতায়াতের পথ হিসেবে দেখা হয়েছে, সেখানে গড়ে উঠতে পারে গুদাম, পণ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, পাইকারি বাজার, পরিবহণ পরিষেবা এবং ক্ষুদ্র শিল্প। সীমান্ত তখন আর শুধু প্রশাসনিক বিভাজনরেখা থাকবে না, হয়ে উঠতে পারে একটি অর্থনৈতিক পরিসর। এর সরাসরি সুবিধা পেতে পারেন কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর, পরিবহণকর্মী, পর্যটন উদ্যোক্তা ও তরুণ পেশাজীবীরা।

তবে সীমান্ত অর্থনীতিকে শুধু বড় করপোরেট প্রকল্পের জন্য ছেড়ে দিলে চলবে না। স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরও এ প্রক্রিয়ার অংশীদার করতে হবে।

কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক যোগাযোগের বড় সুযোগ রয়েছে। উত্তর-পূর্বে উৎপাদিত ফল, সবজি, মসলা, চা ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের জন্য বাংলাদেশের বাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশের খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যও উত্তর-পূর্বের বাজারে আরও বিস্তৃতি ঘটাতে পারে।

তবে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই কাজ শেষ হবে না। প্রয়োজন সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা। সীমান্তের দুই পাশে শীতল সংরক্ষণাগার, প্যাকেজিং কেন্দ্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলা গেলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো সম্ভব। এতে কৃষকেরাও কাঁচামাল বিক্রির বদলে মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করে বেশি আয় করতে পারবেন।

বাঁশ, বেত, তাঁত ও হস্তশিল্পেও একই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর-পূর্বের ঐতিহ্যবাহী উৎপাদনকে আধুনিক নকশা, ব্র্যান্ডিং, ই-বাণিজ্য ও বড় বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে তা স্থানীয় ব্যবহারের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছাতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারত একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে পরিপূরক অংশীদার হতে পারে।

পর্যটন হতে পারে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আরেকটি বড় সেতু। উত্তর-পূর্বের পাহাড়, বন, নদী, জীববৈচিত্র্য, খাবার, উৎসব ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদকে একসূত্রে গেঁথে বৃহত্তর আঞ্চলিক পর্যটন বলয় তৈরি করা সম্ভব। এর অর্থ শুধু বড় হোটেল বা পর্যটন প্রকল্প নয়। স্থানীয় পরিবহণ, খাবার, কারুশিল্প, আবাসন, গাইড পরিষেবা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগকেও এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

দুই অঞ্চলের সম্পর্ককে শুধু পণ্যবাণিজ্যে সীমাবদ্ধ রাখারও প্রয়োজন নেই। তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল বিপণন, নকশা, শিক্ষা, পেশাগত পরিষেবা ও সৃজনশীল শিল্পে সীমান্তের দুই পাশের তরুণদের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সব সময় বড় অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না। দক্ষতা, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ থাকলেই অনেক পরিষেবা দূর থেকে দেওয়া সম্ভব।

ফলে উত্তর-পূর্বের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ শুধু কৃষি, খনিজ বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করবে না। পরিষেবা অর্থনীতিও ধীরে ধীরে এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে।

ব্রিকসের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ভাবনার সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের সম্ভাবনার যোগসূত্র এখানেই। ভারত যদি গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়, তবে সেই অর্থনৈতিক বিস্তারের সুফল দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতেও পৌঁছাতে হবে।

উত্তর-পূর্বকে শুধু বাংলাদেশের মাধ্যমে সমুদ্রবন্দরে পৌঁছানোর একটি করিডর হিসেবে দেখলে এই সম্ভাবনার অর্ধেকই দেখা হবে। একইভাবে বাংলাদেশকেও উত্তর-পূর্বের জন্য শুধু একটি যাতায়াতের পথ হিসেবে দেখলে তার নিজস্ব শিল্প, বাজার ও বন্দরভিত্তিক অর্থনীতির যথাযথ মূল্যায়ন হবে না।

প্রকৃত কৌশল হওয়া উচিত, উত্তর-পূর্ব নিজের উৎপাদন ও পরিষেবা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, বাংলাদেশ নিজের শিল্প, বাজার ও বন্দরভিত্তিক সক্ষমতা আরও প্রসারিত করবে এবং যেখানে দুই অর্থনীতির প্রয়োজন ও সক্ষমতার মিল রয়েছে, সেখানে তৈরি হবে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক।

আরও পড়ুন

ব্রিকস ঘিরে দিল্লিতে রোজগারে ধাক্কা

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এই সম্পর্কের সাফল্য শেষ পর্যন্ত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে: সহজ যোগাযোগ, অনুকূল ব্যবসার পরিবেশ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। ভারতের ব্রিকস নেতৃত্ব তাই শুধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কূটনৈতিক উদ্যোগ বা গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন নয়। এশিয়ার পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভারত কীভাবে নিজের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোকে নতুন বাজার, উৎপাদনকেন্দ্র ও বাণিজ্যপথের সঙ্গে যুক্ত করবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশ সেই পরিবর্তনের একটি বাস্তব ক্ষেত্র। উত্তর-পূর্ব যদি নিজের উৎপাদন, শিল্প ও পরিষেবা শক্তি বাড়াতে পারে এবং বাংলাদেশ যদি তার শিল্প, বাজার ও বন্দরভিত্তিক সক্ষমতা আরও প্রসারিত করে, তবে দুই পক্ষের মধ্যে এমন একটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, যেখানে কেউ শুধু অন্যের পথ নয়, দুপক্ষই হবে অংশীদার।

একটি রাস্তা সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারে। একটি বন্দর দূরত্ব কমাতে পারে। কিন্তু স্থায়ী অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয় তখনই, যখন সেই যোগাযোগের দুপাশে গড়ে ওঠে উৎপাদন, বাজার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং মানুষের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ।

তাই উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে শুধু সড়ক, রেল বা বন্দর দিয়ে সংযোগ স্থাপনের প্রশ্নে আটকে রাখলে চলবে না। আসল সম্ভাবনা রয়েছে সীমান্তের দুই পাশে গড়ে ওঠা দুটি স্বতন্ত্র অর্থনীতিকে পরস্পরের পরিপূরক করে তোলার মধ্যে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারলে এ অঞ্চল একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পরিসরে পরিণত হতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলে সীমান্ত আর কেবল বিভাজনের রেখা থাকবে না, হয়ে উঠতে পারে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও যৌথ সমৃদ্ধির নতুন সেতু।

ভারতবাংলাদেশের অর্থনীতিবাণিজ্য
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    ডেঙ্গুতে ৪ গুণ বেশি মৃত্যুঝুঁকি অন্তঃসত্ত্বার, শঙ্কায় অনাগত শিশুও

    ডেঙ্গুতে ৪ গুণ বেশি মৃত্যুঝুঁকি অন্তঃসত্ত্বার, শঙ্কায় অনাগত শিশুও

    ব্রিকস বর্জন কেউ বলছেন যৌক্তিক, কারও কাছে সুযোগ হাতছাড়া

    ব্রিকস বর্জন কেউ বলছেন যৌক্তিক, কারও কাছে সুযোগ হাতছাড়া

    হুতিরা ফোনে আমাকে বলেছে, তারা লড়াই করতে চায় না: ট্রাম্প

    হুতিরা ফোনে আমাকে বলেছে, তারা লড়াই করতে চায় না: ট্রাম্প

    আ.লীগের মিছিল নিয়ে প্রশ্ন-চিন্তা

    আ.লীগের মিছিল নিয়ে প্রশ্ন-চিন্তা

    জিবুতিতে পালিয়েছেন শত শত ইয়েমেনি

    জিবুতিতে পালিয়েছেন শত শত ইয়েমেনি

    আসিফ নজরুলের দুইটা ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল : পাটওয়ারী

    আসিফ নজরুলের দুইটা ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল : পাটওয়ারী

    আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

    আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

    চাকরির পরীক্ষা নিয়েও দুই বছরে ফলাফল নেই ৬১০ পদের

    চাকরির পরীক্ষা নিয়েও দুই বছরে ফলাফল নেই ৬১০ পদের

    চট্টগ্রামে বসছে পানির আরও ৯৪ এটিএম বুথ

    চট্টগ্রামে বসছে পানির আরও ৯৪ এটিএম বুথ

    এবার সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের হামলা

    এবার সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের হামলা

    লিফট রেখে সিঁড়ি বেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী

    লিফট রেখে সিঁড়ি বেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় শেকৃবির ৬ শিক্ষক বরখাস্ত

    শিক্ষা ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় শেকৃবির ৬ শিক্ষক বরখাস্ত

    রিট আবেদন খারিজ, খুলল না আওয়ামী লীগের ফেরার পথ

    রিট আবেদন খারিজ, খুলল না আওয়ামী লীগের ফেরার পথ

    ‘সরকার উৎখাতের গোপন বৈঠক’, যুবলীগের ৮ নেতা রিমান্ডে

    ‘সরকার উৎখাতের গোপন বৈঠক’, যুবলীগের ৮ নেতা রিমান্ডে

    প্রেম-রোমান্স নির্ভর সিনেমা-নাটক বন্ধে হাইকোর্টে রিট

    প্রেম-রোমান্স নির্ভর সিনেমা-নাটক বন্ধে হাইকোর্টে রিট