ভারতে ককরোচের পর এবার কাঁকড়া

ভারতের ডিজিটাল মাঠে আবির্ভাব ঘটেছে নতুন সংগঠন ‘ই-২০ জনতা পার্টি’র। ছবি: সংগৃহীত
আবার কোমর বেঁধে নামছে ভারতের জেন-জিরা। ‘ককরোচ’ মশালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘জ্ঞানের আলো’ জ্বেলে এবার ছুটছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। টার্গেট নীতিন গড়কড়ি। মোদি সরকারের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী! কদিন আগেই দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিক্ষোভে বিজেপি ভিত কাঁপিয়ে দেয় সদ্যোজাত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষায় দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাস্তায় নেমে আসেন ক্ষুব্ধ তরুণরা। বিক্ষোভের গণবিস্ফোরণের সেই বারুদেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় বিজেপির ‘শক্ত খুঁটি’ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী (প্রাক্তন) ধর্মেন্দ্র প্রধান। শেষ পর্যন্ত ‘কিক আউট’। সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ২৬ জুলাই থেকে ভারতের ডিজিটাল মাঠে আবির্ভাব ঘটেছে আরও একটি নতুন সংগঠনের— ‘ই-২০ জনতা পার্টি’। ককরোচের মতো মাত্র কয়েক দিনেই ই-২০ জনতা পার্টির সামাজিক মাধ্যমও তুঙ্গে। রাতারাতি জনপ্রিয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারী সংখ্যা প্রায় ২.৮৫ লাখ এবং এক্সে প্রায় ৪৯ হাজার, যা এখনো ক্রমাগত বাড়ছে। তবে প্রতীক হিসেবে এবার আর ককরোচ নয়, বেছে নিয়েছে কাঁকড়া। আর নিশানায় মোদি সরকারের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি এবং কেন্দ্রের ইথানলভিত্তিক জ্বালানি নীতি।
কাঁকড়া কেন: ককরোচের আদলেই নিজেদের প্রতীক হিসেবে ‘কাঁকড়া’কে বেছে নিয়েছে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’। সংগঠনের দাবি, অবিচারের বিরুদ্ধে কাঁকড়ার মতোই চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে তাদের আন্দোলন। সামাজিক মাধ্যমে তারা নিজেদের পরিচয় দিয়েছে ‘হ্যাঁ, আমরা কাঁকড়া’। ককরোচ জনতা পার্টির মতোই ব্যঙ্গবিদ্রুপ, মিম, ছোট ভিডিও এবং ভাইরাল প্রচারকে হাতিয়ার করে তারা জনমত গড়ে তুলতে চাইছে। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে সংগঠনটির অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। যদিও দলটির নেতৃত্বে কে বা কারা রয়েছেন, তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ঘোষণা করা হয়নি প্রতিষ্ঠাতার নামও।
সিজেপির সাফল্য থেকেই অনুপ্রেরণা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ই-২০ জনতা পার্টির জন্মের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ককরোচ জনতা পার্টির অভূতপূর্ব সাফল্য। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ৩৬ দিন ধরে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তার প্রথম বড় সাফল্য আসে। আন্দোলনের মুখ ছিলেন অভিজিৎ দীপকে, যিনি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। তার উদ্যোগেই ব্যঙ্গাত্মক প্রচারকে গণআন্দোলনে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়।
ই-২০ জনতা পার্টির দাবি কী: সংগঠনটির দাবি, তারা ইথানলমিশ্রিত জ্বালানির বিরোধী নয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের সামনে বিকল্প থাকা উচিত। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো— সব পাম্পে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রল কেনার সুযোগ দিতে হবে। প্রতিটি জ্বালানিতে কত শতাংশ ইথানল রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। ইথানল মিশ্রণের সুবিধা-অসুবিধা, খরচ এবং প্রভাব সম্পর্কে সরকারকে জনসাধারণের সামনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। মাইলেজ, ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, দূষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের ওপর স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির সমীক্ষাও প্রকাশ করতে হবে। সংগঠনের বক্তব্য, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের আন্দোলন নয়। এটি ভোক্তার অধিকার ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন।’
সামাজিক মাধ্যমে বাড়ছে চাপ: ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর থেকেই এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নীতিন গড়কড়িকে নিয়ে অসংখ্য মিম, ব্যঙ্গচিত্র এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ‘Pradhan Out, Next Gadkari’, ‘Next Number Gadkari’-র মতো হ্যাশট্যাগ দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে। পাশাপাশি নির্মলা সীতারামন, অশ্বিনী বৈষ্ণবসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক প্রচার চলছে।




