বিদেশি অর্থে সরকার বিরোধী আন্দোলন সন্দেহে সিজেপিকে চার ঘণ্টা জেরা
- পাল্টা চ্যালেঞ্জ সৌরভদের

সৌরভ দাস
বিদেশি অর্থে ভারতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে? কক্রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-কে ঘিরে সেই অভিযোগেই নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত। আমেরিকা ও পাকিস্তান থেকে অর্থ নিয়ে সরকার-বিরোধী আন্দোলন পরিচালনার অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। সেই বিতর্কের মধ্যেই দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দফতরে প্রায় চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কা। যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরকে কেন্দ্র করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ৭০টি প্রশ্ন করা হয়েছে।
১৩ অক্টোবর যন্তরমন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের অভিযোগ, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে আমেরিকার কয়েক জন দাতার আর্থিক যোগাযোগ রয়েছে। অশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলের যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য, বিদেশি অর্থে পরিচালিত কিছু সংগঠন ও এনজিও ভারতের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন সৌরভ দাস। তার পাল্টা প্রশ্ন, বিদেশি অর্থ পাওয়ার প্রমাণ কোথায়? কয়েক মাস ধরে একই অভিযোগ করা হলেও সরকার কোনও তথ্যপ্রমাণ প্রকাশ্যে আনতে পারেনি বলে দাবি তাঁর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে অতীতে তাঁদের বৈঠক ও আলোচনার প্রসঙ্গ তুলেও প্রশ্ন তুলেছেন সৌরভ। অশুতোষের বক্তব্য, তদন্তে সহযোগিতা করছেন তাঁরা, কিন্তু জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই। এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী আন্দোলনের আবহে সিজেপি-র মতো নতুন সংগঠনকে কেন্দ্র করে বিদেশি মদতের অভিযোগ সামনে আনছে বিজেপি। অন্য দিকে, সিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আন্দোলনকে দুর্বল করতেই এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তবে বিদেশি অর্থের অভিযোগের পক্ষে এখনও প্রকাশ্যে কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ আসেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছক একটি ফৌজদারি তদন্ত, না কি ক্রমশ বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিচ্ছে।



