সিজেপির সংসদ অভিযানে লাঠিচার্জ, আন্দোলন দমাতে বন্ধ ৫ মেট্রো স্টেশন
- বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই কেন্দ্রকে ঘিরে বিক্ষোভের ঝড়
- আন্দোলনের সমর্থনে উপস্থিত হন অভিনেতা প্রকাশ রাজ, অভিনেত্রী শাবানা আজমি, আজাদ সমাজ পার্টির নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ-সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি

মান্ডি হাউজ মেট্রো স্টেশন থেকে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়
সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানী দিল্লি উত্তাল হয়ে উঠল শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম, পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার দিল্লির রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার ছাত্র-যুব, শিক্ষক, সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষ। আন্দোলনকারীদের সংসদমুখী মিছিল আটকাতে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ রুখতেই লাঠিচার্জ থেকে বহু মেট্রো স্টেশন বন্ধসহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সকালে মান্ডি হাউজ মেট্রো স্টেশন থেকে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বহু ছাত্র-যুব ও নারী আন্দোলনকারীর ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
আন্দোলনের জেরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জনপথ, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, সেবা তীর্থ এবং রাজীব চকসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তির মুখে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে যন্তর মন্তরে সকাল থেকেই উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। আন্দোলনের সমর্থনে উপস্থিত হন অভিনেতা প্রকাশ রাজ, অভিনেত্রী শাবানা আজমি, আজাদ সমাজ পার্টির নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ-সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি। আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রকে জবাবদিহি করতেই এই কর্মসূচি।
সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করছে। দলের মুখপাত্রদের দাবি, মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ব্যারিকেড, আটক এবং লাঠিচার্জের মাধ্যমে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় দলটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে প্রশ্ন তোলে, কেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নিরাপত্তার অজুহাতে আটকে দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক সফদরজং হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে সাময়িক মুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। তার দাবি, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় তাকে সংসদ অভিযানে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। তিনি জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলে অথবা সাংসদরা সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করার আশ্বাস দিলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে রাজি।
প্রথমে জেলা প্রশাসন, পরে কেন্দ্রীয় সরকারের এক সচিব এবং এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সিজেপি তা প্রত্যাখ্যান করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী অথবা পূর্ণমন্ত্রী পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে হবে।
এদিকে একই দিনে শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনেও শিক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিয়ে সরব হয় বিরোধীরা। সংসদের ভেতরে এবং বাইরে এই ইস্যু ঘিরে চাপ বাড়তে থাকায় প্রথম দিন থেকেই সরকারকে অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়। একদিকে সংসদ চত্বরের বাইরে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ, অন্যদিকে সংসদের ভেতরে বিরোধীদের আক্রমণ— সব মিলিয়ে বাদল অধিবেশনের সূচনাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পরীক্ষার নিরাপত্তা এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।




