দালালের ‘কাজের প্রলোভন’ আসামে শিশুসহ ১২ বাংলাদেশি

সংগৃহীত ছবি
ভারতের আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়া শহর থেকে শিশুসহ ১২ বাংলাদেশিকে আটক করেছে পুলিশ। দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে গত ৯ অক্টোবর তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের দাবি, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এক দালাল তাদের সীমান্ত পার করে ভারতে নিয়ে যান।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় গোয়ালপাড়া শহরের বাসস্ট্যান্ডের কাছে গুয়াহাটি থেকে আসা একটি বাসে ওঠেন ১২ জন। এরপর তাদের দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তারা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল থেকে এসেছেন বলে জানান। এরপর তাদের আটক করে গোয়ালপাড়া সদর থানায় নেওয়া হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সিরাজুল ইসলাম (৪৫), তার ছেলে ফাইম আহমেদ (২৪) ও রহিম আহমেদ (১৮), স্ত্রী জোবেদা বেগম (৩৮), মেয়ে তানিয়া বেগম (১৯), ফাইম আহমেদের এক বছর চার মাস বয়সী মেয়ে ফাহিমা বেগম ও পাঁচ বছর ছয় মাস বয়সী ছেলে আলী হোসেন। অন্যরা হলেন আমির আলী (৩৮), তার ছেলে রোহেন আলী (১৯), স্ত্রী খোদেজা বেগম (৩৬), রুমেনা আখতার (১৮) এবং ১০ মাসের ইয়াসিন আলী।
এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার হাসিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। অন্যরা সুনামগঞ্জ জেলার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা।
আটক সিরাজুল ইসলামের দাবি, বাংলাদেশি এক দালাল সবুজ আসামে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রলুব্ধ করেন। গত ৬ অক্টোবর একটি জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সীমান্ত পার করে তাদের ভারতে নিয়ে যান তিনি। পরে পাথরখনিতে কাজ দেওয়ার কথা বলে দালালচক্র তাদের মেঘালয় হয়ে গুয়াহাটিতে নিয়ে যায়।
তার ভাষ্য, গুয়াহাটিতে দুই দিন থাকার পর দালালচক্রের আরেক সদস্য টিকিট কাটার কথা বলে তাদের কাছ থেকে সাত হাজার রুপি ও মুঠোফোন নিয়ে চলে যান। এরপর অসহায় অবস্থায় তারা বাসে করে গুয়াহাটি থেকে গোয়ালপাড়া যান। সেখানেই তাদের আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের ৯ অক্টোবর রাতে গোয়ালপাড়া সদর থানায় রাখা হয়। পরদিন ১০ অক্টোবর তাদের বেলতলার রিজার্ভ পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের মাতিয়া অন্তর্বর্তী শিবিরে পাঠানো হয়।




