পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০-কে

রাজ্য সরকারের সমীক্ষার পর মাদ্রাসাগুলি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসাগুলির অনুমোদন, পরিকাঠামোর খুঁটিনাটি এবং পরিচালন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে বড় পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। রাজ্য সরকারের সমীক্ষার পর ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ১০০ টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। রবিবার সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য জানান সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন রয়েছে এমন মাদ্রাসাগুলি চালু থাকবে। অন্যদিকে, নোটিস পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলিকে বৈধ অনুমোদনের নথি ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতে হবে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে তাদের বিরুদ্ধেও বন্ধের পদক্ষেপ করা হতে পারে।
জানা গিয়েছে, জুনের গোড়া থেকে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলির পরিস্থিতি যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। কলকাতা সহ ২২টি জেলায় এই যাচাই চালানো হয়। মাদ্রাসার পরিচালন ব্যবস্থা, পড়ুয়া ও শিক্ষকের সংখ্যা, নথিভুক্তির অবস্থা, অর্থের উৎস, পরিকাঠামো এবং পাঠ্যক্রম সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই অনুমোদিত ও অননুমোদিত মাদ্রাসার সংখ্যা নির্ধারণের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন টুডু।
সরকারি হিসাবে, বর্তমানে রাজ্যে ২,১৩২টি মাদ্রাসা বৈধ অনুমোদন নিয়ে চলছে। অন্যদিকে, অনুমোদনহীন মাদ্রাসার সংখ্যা ২,৩৯৬ বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। প্রথম দফায় বন্ধের নির্দেশ পাওয়া ২৫২টির মধ্যে বেশির ভাগই খারিজি মাদ্রাসা বলে জানা গেছে। জেলার হিসাবে মালদহে ৪৪টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২টি এবং নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় রয়েছে।
সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করে রাজ্যের পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মাদ্রাসাগুলিকে ঘিরে অতীতে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগের কথা তোলেন। তাঁর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে চরমপন্থী কার্যকলাপে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। কিছু ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ‘দেশবিরোধী’ কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে আইন মেনে ও সরকারি অনুমোদন নিয়ে চলা মাদ্রাসাগুলি চালু থাকবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৃণমূল। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, সব মাদ্রাসাকে একই চোখে দেখা উচিত নয়। অর্থাৎ কোনও প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বা পরিকাঠামোগত সমস্যা থাকলে তা আলাদা ভাবে খতিয়ে দেখা যেতে পারে। কিন্তু সেই কারণে সব মাদ্রাসাকে একই কাঠামোয় বিচার করা ঠিক নয়। মাদ্রাসা বন্ধের এই সিদ্ধান্তে তাই এক দিকে প্রশাসনিক নিয়ম, অনুমোদন ও পরিকাঠামোর প্রশ্ন সামনে এসেছে। অন্যদিকে উঠেছে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক।



