কলকাতার নিজামস রেস্তোরাঁয় মিলছে না গরুর মাংসের পদ

সংগৃহীত ছবি
কলকাতার খাবারের ইতিহাসে নিজামস শুধু একটি রেস্তোরাঁ নয়, শহরটির ঐতিহ্যও। এসপ্ল্যানেডের ব্যস্ত মোড়ের এই পুরনো দোকানের গরম কাবাব রোল, ধোঁয়া ওঠা কাবাব কিংবা গরুর মাংসের বিশেষ পদ বাঙালির স্মৃতিতে মিশে আছে বহু প্রজন্ম ধরে। অথচ সেই নিজামসে এখন মিলছে না গরুর মাংসের জনপ্রিয় পদগুলো। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরের ভোজনরসিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে হতাশা ও আলোচনা।
গত কয়েকদিন ধরে বহু ক্রেতা গিয়ে শুনছেন, বিফ রোল বা গরুর মাংসের অন্য পদ আপাতত বন্ধ। রেস্তোরাঁ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাংসের সরবরাহে টান পড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত।
শুধু নিজামস নয়, পার্ক স্ট্রিট ও মধ্য কলকাতার আরও কয়েকটি পরিচিত রেস্তোরাঁতেও একই সংকট। ব্যবসায়ী মহলের দাবি, সম্প্রতি গরু জবাই ও মাংস সরবরাহ নিয়ে বেড়েছে প্রশাসনিক কড়াকড়ি। পশু স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কাগজপত্র যাচাই এবং নির্দিষ্ট নিয়ম না মানলে এখন আর সহজে বাজারে যাচ্ছে না মাংস।
কলকাতার স্বীকৃত কসাইখানাগুলোতেও বেড়েছে নজরদারি। তাতেই নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে জনস্বাস্থ্যের দোহাই দিচ্ছে প্রশাসন। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই এমন কড়া নিয়ম। পরীক্ষা ছাড়া মাংস বিক্রি হলে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যায়।
হঠাৎ করে এমন কঠোর নিয়মে বড় ধাক্কা খেয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। তাদের অভিযোগ, এমন নিয়মের ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁ শিল্প ও হাজার হাজার কর্মীর জীবিকায়।
কলকাতার খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্ব বহন করছে পুরনো রেস্তোরাঁ ও তাদের ঐতিহ্যবাহী পদ। সেই স্বাদ হারিয়ে গেলে বদলে যাবে শহরের চরিত্রও। বহু মানুষের কাছে নিজামসের বিফ রোল শুধু খাবার নয়, কলকাতার ইতিহাসেরই এক অংশ।
এই পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের নীতিকেই দায়ী করছেন কেউ কেউ। তাদের অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে বেড়েছে গরু জবাইয়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, কেনা-বেচায় বাধা এবং একের পর এক গরুর হাট বন্ধ করার প্রবণতা।
এমনকি, গত কয়েকদিনে গরু পরিবহনকারী গাড়ি আটক করে একাধিক ঘটনাও ঘটেছে মারধরের। গরু কিনে ফেরার পথে বিজেপি কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব কারণে ধীরে ধীরে খাদ্যাভ্যাসের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মত সমালোচকদের।




