ককরোচের পক্ষে এবার ধর্নায় আজাদ সমাজ পার্টির নেতা

আজাদ সমাজ পার্টির জাতীয় সভাপতি ও নাগিনা কেন্দ্রের সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ
দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচারে পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ল। আজাদ সমাজ পার্টির জাতীয় সভাপতি ও নাগিনা কেন্দ্রের সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ সোমবার গভীর রাতে সংসদ চত্বরে ড. বি আর আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে অবস্থান ধর্মঘটে বসে প্রতিবাদ শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে সেই অবস্থান কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে তিনি জানান, ছাত্রদের সঙ্গে যা ঘটেছে তা তাঁকে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
এক্স-এ করা পোস্টে আজাদ লেখেন, “অত্যাচার যখন সীমা অতিক্রম করে, তখনই পরিবর্তনের জন্ম হয়।”তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর যেভাবে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করিনি, কিন্তু সোমবারের দৃশ্য সেই ইতিহাসের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।”
আজাদের মতে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকারের জবাবে রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ শুধু কয়েকজন আন্দোলনকারীর উপর হামলা নয়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপরও আঘাত। তিনি স্পষ্ট জানান, ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।
এর আগে সোমবার সকালেই তিনি ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা যন্তর মন্তরের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। সংঘর্ষ শুরুর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “অন্যায় সহ্য করা অন্যায় করার থেকেও বড় অপরাধ।” তার দাবি, দেশের যুবসমাজের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে এবং সরকার তা ঘটতে দিচ্ছে। একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবেই তিনি ছাত্রদের যন্ত্রণা অনুভব করেন এবং সেই কারণেই তাঁদের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন।
আজাদ আরও জানান, তিনি এই বিষয়টি সংসদের ভেতরেও উত্থাপন করবেন। জানা যায়, সংসদমুখী মিছিলের সময় দিল্লি পুলিশ তাকে এগোতে বাধা দেয়। সেই সময় পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়।
উল্লেখ্য যে, সোমবার ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় হাজার হাজার আন্দোলনকারী সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ তাদের আটকে দেয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে আহত এক তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। সোমবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তিনি গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। সেই আবহেই সংসদ চত্বরে ধর্নায় বসে চন্দ্রশেখর আজাদ স্পষ্ট বার্তা দিলেন, ছাত্র আন্দোলনের প্রশ্নে তিনি পিছিয়ে আসবেন না এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে তার লড়াই চলবে।





