রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ

সংগৃহীত ছবি
ভারতের বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মঙ্গলবার আটক করেছে পুলিশ। সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে অবস্থান কর্মসূচি শুরুর প্রায় ৯ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদেরসহ অন্যান্য নেতাদের আটক করা হয়। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছিলেন।
পুলিশ তাদের একটি বাসে তুলে নিয়ে যায়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কংগ্রেসকর্মীরা তাদের আটকানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ সদস্যরা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে, তাদের এবং অন্য নেতাদের উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নেওয়া হচ্ছিল।
আকাশবাণী ভবনের চত্বরে এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের নেওয়া কথিত ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে ‘অনিয়মের’ অভিযোগে ইন্ডিয়া জোটের আয়োজিত বিক্ষোভের অংশ ছিল এটি। কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে মিছিল, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতাদের আটক
০৬ অক্টোবর ২০২৬
এর আগেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়েছিল। দুপুরের দিকে তাদের কিছু সময়ের জন্য একটি পুলিশ বাসে তোলা হয়। পরে তাদের বাস থেকে নামতে দেখা যায়।
সেসময় আকাশবাণী ভবনে সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় মাত্র ৫০ মিটার দূরে। কিন্তু আমাদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সমস্যাটা কী, আমি বুঝতে পারছি না। নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা। অন্তত ৩০০ জন সংসদ সদস্য জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু তিনি ভয় পাচ্ছেন। দেশে কী হচ্ছে, আমি জানি না।’
তিনি বললেন, ‘জনগণের প্রতিনিধিরাই যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন, তাহলে গণতন্ত্রের অর্থ কী?’
সন্ধ্যায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকের আগে কংগ্রেস সূত্র জানায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে দলটি একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
একটি সূত্র বলেছে, ‘নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা এসে যদি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে বৈঠকের আশ্বাস দেন, তাহলে গান্ধী চলমান অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে পারেন। তবে তার শর্ত হলো,৩০০ জন সংসদ সদস্যকেই ওই বৈঠকে অংশ নিতে হবে।’
সূত্র: এনডিটিভি




