ককরোচ আন্দোলন থেকে জাতীয় ‘ক্রাশ’

সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং মুখপাত্র সৌরভ দাসকে নিয়ে এখন চলছে অন্যরকম চর্চা। একজনকে ঘিরে ‘ক্রাশ’-এর উন্মাদনা তো অন্যজনের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাবের ঢল। আন্দোলনের স্লোগান ছাপিয়ে এখন তাদের ব্যক্তিত্বও সমান আলোচনায়। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশ জুড়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার জেরেই রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে তারা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার ‘হার্টথ্রব’। বিশেষ করে সৌরভ দাসকে ঘিরে সারা দেশে জেন-জি প্রজন্মের উন্মাদনা এখন চোখে পড়ার মতো। তার ছবি বা ভিডিও প্রকাশ পেলেই কমেন্ট বক্স ভরে যাচ্ছে প্রশংসায়। কেউ লিখছেন, ‘আমার রাজনৈতিক ক্রাশ’, কেউ বলছেন, ‘আত্মবিশ্বাসটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়’ আবার কারও মন্তব্য, ‘এমন মানুষকেই নেতৃত্বে দেখতে চাই।’ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ এমন জনপ্রিয়তার রহস্য কী? কেবল সুদর্শন চেহারা? সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরটা এতটা সহজ নয়। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন গবেষণাতেই দেখা গিয়েছে, নারীরা শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে কাউকে পছন্দ করেন না। আত্মবিশ্বাস, স্পষ্টভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষমতা, বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্বের গুণ, আবেগ এবং ব্যক্তিত্ব— এসব বৈশিষ্ট্য অনেক বেশি প্রভাব ফেলে নারীমনে। আর সৌরভ দাসের ক্ষেত্রেও সেই সমীকরণই যেন মিলেছে। ক্যামেরার সামনে তার সাবলীল উপস্থিতি, যুক্তি দিয়ে কথা বলার ধরন এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরার ক্ষমতা বহু তরুণীর মন কেড়েছে।
অন্যদিকে, আন্দোলনের আরেক পরিচিত মুখ অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে এখন নাকি ফোন আর বার্তার শেষ নেই। ৩০ বছরের এই তরুণ, যিনি ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন, তার জন্যও বিয়ের প্রস্তাব আসছে একের পর এক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিতের মা অনিতা দীপকে জানিয়েছেন, আন্দোলনের আগেও ছেলের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসত। তবে জাতীয় স্তরে পরিচিতি পাওয়ার পর সেই সংখ্যা বহু বেড়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ যোগাযোগ করছেন বিয়ের জন্য। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে উচ্চশিক্ষার সময়ও ছেলের বিয়ের প্রসঙ্গ উঠেছিল। কিন্তু তখন অভিজিৎ হেসে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন।




