দিল্লির বিক্ষোভের আগে ব্যাপক ধরপাকড়, আটক অন্তত ১ হাজার

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন দিল্লির দক্ষিণ-পূর্ব জেলার। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আজ শনিবার ককরোচ জানতা পার্টি (সিজেপি) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ডাকা বিক্ষোভের আগে রাতভর অন্তত এক হাজার মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাক দেওয়া হয়েছে এ বিক্ষোভের।
পুলিশের বরাতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন দিল্লির দক্ষিণ-পূর্ব জেলার। তাদের বেশির ভাগকে শাহিনবাগ এলাকার আশপাশ থেকে করা হয়েছে আটক।
২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই শাহিনবাগ এলাকা।
দিল্লি পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শাহদারা ও পূর্ব দিল্লি জেলা থেকেও শতাধিক ব্যক্তিকে করা হয়েছে আটক। এই দুই জেলা অবস্থিত উত্তর প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে করা হয়েছে এসব ব্যক্তিদের আটক। বিক্ষোভ সংগঠিত করা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অতীত ইতিহাস রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে করা হচ্ছে আটক।
আটক ব্যক্তিদের দিল্লির বিভিন্ন জেলার ১৩টি প্রধান আটককেন্দ্রে নেওয়া হবে।
এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে পুরো রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টার দিকে সিজেপির নেতাদের দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্থানীয় পুলিশ বলছে, মাঠপর্যায়ে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দিল্লির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও জোরদার করা হয়েছে নজরদারি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিভিন্ন শিফটে পুলিশ পরিদর্শক, পুরুষ ও নারী পুলিশ সদস্যদের প্লাটুন এবং অন্যান্য ইউনিট দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে অতিরিক্ত সদস্য ও রিজার্ভ বাহিনী মোতায়েনেরও।
দিল্লির বিভিন্ন জেলার সংযোগস্থলে বিশেষ পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্য দিল্লি ও নয়াদিল্লি জেলার মধ্যবর্তী এলাকা। দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সংযোগস্থলেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
নয়াদিল্লির কাছাকাছি অশোকা রোড ও টলস্টয় রোডের মতো এলাকায় থেকেও বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ কঠিন হতে পারে। এসব সড়কে ১০টি ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সেখানে মোতায়েন রয়েছেন ৩০ জনের বেশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য।
সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
অচল হওয়ার পথে দিল্লি
১০ অক্টোবর ২০২৬





