হারিয়ে গেছে নেপালের ভারত সীমান্তের দলিল!

নেপাল ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তরেখা হিসেবে প্রবাহিত মহাকালী নদী।
ভারত-নেপাল সীমান্তের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলগুলোর একটি ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি। কিন্তু দুই শতাব্দী পর এসে এই চুক্তির মূল স্বাক্ষরিত কপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, সরকারের কাছে কিছু নথি থাকলেও সেগুলোর মধ্যে কোনটি সুগৌলি চুক্তির আনুষ্ঠানিক মূল দলিল— তা নিশ্চিত নয়। গত সপ্তাহের (১০ আগস্ট) হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস বৈঠকে নতুন করে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন তিনি।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নেপালের রাষ্ট্রীয় নথি সংরক্ষণ এবং ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের পর ১৮১৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও নেপালের মধ্যে সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি নেপালের সীমান্ত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা নিয়ে ভারত-নেপালের বর্তমান বিরোধের আলোচনায় চুক্তিটি বারবার সামনে আসে।
চুক্তিতে মহাকালী বা কালী নদীকে নেপালের পশ্চিম সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু নদীটির প্রকৃত উৎস কোথায়— এ নিয়ে ভারত ও নেপালের ব্যাখ্যা ভিন্ন। এই ভিন্ন ব্যাখ্যাই কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরার ভূখণ্ডগত দাবির অন্যতম ভিত্তি।
নেপালে সুগৌলি চুক্তির মূল কপি না থাকার বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালেও কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, চুক্তিটির মূল কপি নেপালের জাতীয় সংগ্রহশালা বা জাতীয় আর্কাইভে সংরক্ষিত নেই। তখন নথিটি কোথায় রয়েছে, তা নিয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে মূল কপি নেপালের আর্কাইভে নেই বা তার অবস্থান নিশ্চিত নয়— এটি একাই নেপালের সীমান্ত দাবিকে বাতিল করে না। সীমান্তসংক্রান্ত বিরোধে ঐতিহাসিক চুক্তির পাশাপাশি পুরনো মানচিত্র, প্রশাসনিক নথি এবং অন্যান্য প্রামাণ্য দলিলও গুরুত্বপূর্ণ।
নেপাল সরকার সীমান্ত সমস্যার সমাধানে ঐতিহাসিক চুক্তি ও মানচিত্রের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বলে আসছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানাল জানিয়েছেন, সীমান্তের অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে নেপালের অবস্থান রয়েছে।
ফলে সুগৌলি চুক্তির মূল দলিলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্নটি শুধু পুরনো একটি নথির সন্ধানের বিষয় নয়। কালাপানি-লিপুলেখ-লিম্পিয়াধুরা নিয়ে ভারত-নেপাল বিরোধের প্রেক্ষাপটে দুই শতাব্দী আগের সেই চুক্তির নথি, মানচিত্র ও ঐতিহাসিক রেকর্ড নতুন করে যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।






