আদালতের রায়ে ‘আসল’ তৃণমূলের মর্যাদা পেল ঋতব্রত শিবির

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দীর্ঘদিন ধরে চলা তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বৈধতা সংক্রান্ত বিতর্কে রবিবার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল আলিপুর আদালত।
আদালত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ২২ সদস্যের সর্বভারতীয় কমিটিকেই আইনগতভাবে বৈধ বলে উল্লেখ করেছে বলে দাবি করেছে তার শিবির। রায় প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে ‘আসল’ ও ‘নকল’ তৃণমূল বিতর্ক।
ঋতব্রত শিবিরের দাবি, আদালত স্পষ্টভাবে তাদের গঠিত ২২ সদস্যের সর্বভারতীয় কমিটিকেই বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই কারণে দলের নাম, পতাকা, প্রতীক, অফিস এবং সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহারের একমাত্র অধিকার তাদেরই রয়েছে। আদালতের নির্দেশের কপি নির্বাচন কমিশনের কাছেও জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ওই শিবির।
রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আমরা শুরু থেকেই যে দাবি জানিয়ে এসেছি, আদালতের পর্যবেক্ষণে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। দলের পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আর কোনও বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।
তিনি আরও দাবি করেন, আদালতের রায়ের পরে অন্য কোনও গোষ্ঠী যদি তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ব্যবহার করে দলীয় কর্মসূচি, অফিস পরিচালনা বা সাংগঠনিক কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার কথায়, আবেগ নয়, আইনই শেষ কথা বলবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে আসছিল। এর ফলে সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের একাংশের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। আদালতের এই রায় সেই অনিশ্চয়তা কিছুটা কমালেও রাজনৈতিক লড়াই এখানেই থেমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে না।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক মানস মুখোপাধ্যায়ের মতে, আদালতের রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে রাজনৈতিক বৈধতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে জনসমর্থন, সাংগঠনিক শক্তি এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী অবস্থানের উপর।
অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই আদালতের রায়কে ‘আইনের জয়’ বলে অভিহিত করছেন, আবার বিরোধী মতও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের বক্তব্য, আদালতের পর্যবেক্ষণের পর নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
অন্যদিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আদালতের রায় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা কালীঘাট শিবিরের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।




