ভারত-বাংলাদেশের দেশভাগের ইতিহাস তুলে ধরতে কলকাতায় তৈরি হচ্ছে মিউজিয়াম

ভারত-বাংলাদেশের ইতিহাস, দেশভাগের যন্ত্রণা এবং উদ্বাস্তু মানুষের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। কলকাতায় তৈরি হতে চলেছে ‘দেশভাগ মিউজিয়াম’। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পাশাপাশি দুই বাংলার মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক ইতিহাসও সেখানে তুলে ধরা হবে। গত ৬ নভেম্বর, কলকাতায় রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বৈঠকে এই সংগ্রহশালা তৈরির প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরিণতি হিসেবে অবিভক্ত বাংলা ভেঙে তৈরি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব পাকিস্তান। পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত হয়। এই বিভাজনে অসংখ্য মানুষকে ভিটেমাটি ছেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। তাদের অনেকের কাছে দেশভাগ শুধু ইতিহাসের ঘটনা নয়, আজও বয়ে চলা এক গভীর ক্ষত। সেই স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলেও এমন সংগ্রহশালা তৈরির পরিকল্পনা হয়েছিল। তৎকালীন হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান শিল্পী শুভাপ্রসন্নের নেতৃত্বে উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিকল্পনা নতুন করে গতি পেয়েছে।
শুক্রবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন। ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
সংগ্রহশালায় জায়গা পেতে পারে পুরনো সরকারি নথি, মানচিত্র, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও দুর্লভ ছবি। থাকবে উদ্বাস্তু পরিবারগুলির চিঠি, ব্যক্তিগত সামগ্রী, পারিবারিক ছবি এবং দেশভাগের প্রত্যক্ষদর্শীদের মৌখিক সাক্ষ্য। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় উদ্বাস্তু কলোনি গড়ে ওঠার ইতিহাস, পুনর্বাসনের লড়াই এবং সরকারি উদ্যোগও তুলে ধরা হবে। শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস নয়, দেশভাগ কীভাবে বাংলা সাহিত্য, গান, সিনেমা ও খাদ্যাভ্যাসকে বদলে দিয়েছিল, তারও বিবরণ থাকবে সংগ্রহশালায়। দুই বাংলার মানুষের অভিন্ন সাংস্কৃতিক স্মৃতিও পাবে বিশেষ গুরুত্ব।
এর আগে অমৃতসর ও দিল্লিতে দেশভাগ নিয়ে সংগ্রহশালা তৈরি হয়েছে। কলকাতার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি হবে দেশের তৃতীয় দেশভাগ মিউজিয়াম। তবে কোথায় সংগ্রহশালাটি তৈরি হবে, কবে নির্মাণ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।




