ককরোচ আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর গুলি
দিল্লি পুলিশকে ‘এসওপি’ জমা দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ছবি: রয়টার্স
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে (সিজেপি) ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ধাতব পেলেট ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই প্রধান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়ে দিল যে, পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী পেলেট গান শুধু ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই’ ব্যবহার করা যায়। নচেৎ নয়।
সেই কারণেই দিল্লি পুলিশকে বলপ্রয়োগের ধাপে ধাপে প্রয়োগ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং অর্ডার (এসওপি) আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলো আদালত। পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারকেও নোটিস পাঠিয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে।সুপ্রিমকোর্টে আন্দোলনকারী ছাত্রদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার। তার দাবি যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রাবার বা প্লাস্টিকের নয়, ধাতব (মেটালিক) পেলেট ব্যবহার করা হয়েছে। তার বক্তব্য এই ধরনের ‘কাইনেটিক মেটালিক প্রজেক্টাইল’ পুলিশের প্রচলিত ভিড় নিয়ন্ত্রণের অস্ত্রের থেকে আলাদা এবং এই পেলেট গান ব্যবহার নিয়ে কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রদের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় পুলিশের এই পদক্ষেপে বহু বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হন। এমনকি একজনের একটি চোখে পেলেট গানের আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই ঘটনার বৈধতা নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট আরও স্পষ্ট জানায় যন্তর মন্তরের ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ ‘গ্রেডেড ইউজ অব ফোর্স’ বা ধাপে ধাপে বলপ্রয়োগের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই কারণেই এসওপি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে গত ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে করা জনস্বার্থ মামলায় দেশ জুড়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণে ধাতব পেলেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ও আহতদের ক্ষতিপূরণ এবং এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের স্পষ্ট নীতিমালা তৈরির আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত জানায়, মামলার পরবর্তী শুনানি ৩ আগস্ট, ২০২৬। ওইদিন দিল্লি পুলিশের জমা দেওয়া নথি ও কেন্দ্রের জবাবের ভিত্তিতেই যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে বলপ্রয়োগের বৈধতা নিয়ে আরও বিস্তারিত শুনানি হবে।





