রাজপথে ফিরলেন মমতা

সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে নানা জল্পনা তুঙ্গে। ঠিক এমন সময়েই রাজপথে নেমে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ঐক্য ও লড়াইয়ের বার্তা দিলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী অশান্তি, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ, নিট পরীক্ষার জালিয়াতি ও বিজেপি সরকারের প্রতিহিংসামূলক আচরণের প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতার রানি রাসমণি রোডে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন মমতা।
এ সময় মমতা বার্তা দেন, রাজনৈতিক চাপ বা ভাঙনের আশঙ্কার মধ্যেও পিছিয়ে আসবে না তার দল।
দুপুরে সমাবেশস্থলে পৌঁছে হাতে ভারতের সংবিধান তুলে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তিনি ডক্টর ভীমরাও আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন এবং ময়ো রোডে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। এ সময় মমতার পাশে দেখা যায় কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ, সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, অসীমা পাত্র, মদন মিত্রসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে। পাশাপাশি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য ও বিধায়কও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অসংখ্য সমর্থক জড়ো হয় সেখানে।
তৃণমূলের আগেই জানিয়েছিল, কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীদের যদি কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়, তবে তারা যেন ধর্মতলার ওয়াই-চ্যানেল এলাকায় জমায়েত হন এবং পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করেন। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার লড়াই চলবে।
এই কর্মসূচির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক দলীয় অস্থিরতার কারণে। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে। সম্প্রতি দলবিরোধী ও অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগী নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন। নাম উল্লেখ না করেই তিনি বলেছেন, যারা মানুষের ভোট নিয়ে পরে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে মানুষই শেষ পর্যন্ত জবাব দেবে। ভয় বা চাপের কাছে মাথা নত না করারও বার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হয়েছিল দলের।
মঞ্চ থেকে মমতা ঘোষণা করেন, ‘লড়ব, না হলে মরব। বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো পর্যন্ত আমি থামব না।’




