হাজার মানুষের খোঁজ শেষ হলো কান্নায়
যুক্তরাজ্যে নিখোঁজ তিন বছরের শিশু নোয়াহকে মৃত উদ্ধার
- সাফোকের পুকুর থেকে শিশুর দেহ, ‘সন্দেহজনক নয়’ বলছে পুলিশ
- কান্নায় ভেঙে পড়ল ১,৩০০ স্বেচ্ছাসেবীর অনুসন্ধান দল

নোয়াহ উডস
পূর্ব ইংল্যান্ডের সাফোকের ছোট্ট গ্রাম ব্রানথামের প্রতিটি রাস্তা, বাগান আর জলাশয়ে তখন একটাই খোঁজ... ছোট্ট নোয়াহ কোথায়? তিন বছরের শিশুটিকে ফিরে পাওয়ার আশায় পুলিশ, উদ্ধারকারী দল আর প্রায় ১,৩০০ স্বেচ্ছাসেবী রাত-দিন তল্লাশি চালিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মরিয়া অভিযানের শেষ হলো এক হৃদয়বিদারক খবরে। নিখোঁজ নোয়াহ উডসের খোঁজে তল্লাশির সময় একটি শিশুর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দ্য গার্ডিয়ান ও স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাফোকের ব্রানথামের ডেকয় পন্ড থেকে ওই দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে নোয়াহর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনাটি বর্তমানে “সন্দেহজনক নয়, তবে ব্যাখ্যাতীত” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাফোক পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট টম পিয়ার্স বলেছেন, “আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল ব্রানথামের ডেকয় পন্ড থেকে দুঃখজনকভাবে একটি শিশুর দেহ উদ্ধার করেছে।” তিনি আরও বলেছেন, “প্রথম এবং সর্বাগ্রে আমাদের চিন্তা নোয়াহর পরিবার ও যারা তাঁকে চিনতেন, তাঁদের সঙ্গে রয়েছে।”
নোয়াহ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ব্রানথামের মেরিয়াম ক্লোজ এলাকার একটি খেলার মাঠে এক আত্মীয়ের সঙ্গে ছিল। সেখান থেকেই সে আলাদা হয়ে যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিসিটিভিতে দুপুর ২টা ৩৭ মিনিটে তাঁকে শেষবার দেখা যায়। এরপর সএ একটি গলিপথ দিয়ে কাছের আবাসন এলাকার দিকে চলে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নোয়াহ ছিল অটিজমে আক্রান্ত, কথা বলতে পারত না এবং তার আংশিক শ্রবণ সমস্যা ছিল। এ কারণে তাকে নাম ধরে ডাকলেও সে সাড়া নাও দিতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুটিকে খুঁজতে কুকুর, বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল, হেলিকপ্টার, উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে কাজে লাগায় পুলিশ।
তল্লাশি অভিযানে সাফোক পুলিশ, ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস, এইচএম কোস্টগার্ড, সাফোক লোল্যান্ড সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এবং প্রায় ১,৩০০ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বাগান, শেড, ঝোপঝাড় ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ চালান। অনেক স্বেচ্ছাসেবী দূর-দূরান্ত থেকে ব্রানথামে এসে অভিযানে যোগ দেন।
নোয়াহর বাবা রাইস উডস এর আগে সামাজিক মাধ্যমে মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, “আমি আর একটি রাত কাটাতে পারব না এটা জেনে যে সে একা কোথাও আছে। দয়া করে তাকে খোঁজা বন্ধ করবেন না।” তার সেই আবেদনেই বিপুল মানুষ অনুসন্ধানে যুক্ত হন।
বুধবার সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে সুপারিনটেনডেন্ট পিয়ার্স বলেছেন, পুলিশ ও পরিবার সাধারণ মানুষের সহায়তায় “অভিভূত”। তিনি তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এখন নোয়াহর পরিবারের প্রয়োজন “সময়, জায়গা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা”।
একটি শিশুর সন্ধানে যে গ্রাম একসঙ্গে পথে নেমেছিল, বুধবার সন্ধ্যায় সেই ব্রানথামেই নেমে আসে শোকের নীরবতা। নোয়াহকে ফিরে পাওয়ার আশায় যে হাজারো মানুষ অপেক্ষা করছিলেন, তাদের হাতে রইল শুধু এক বেদনাদায়ক খবর।



