ব্রিটেনের মার্কিন ঘাঁটিতে সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে আটক পাঁচজনই ব্রিটিশ নাগরিক
- সন্ত্রাসের প্রস্তুতির সন্দেহে পাঁচ যুবকের হেফাজত বাড়াল পুলিশ
- তিন সন্দেহজনক ভ্যান ঘিরে বিস্ফোরক তদন্ত, ৮৫ পরিবার সরানো
- ‘বড় ক্ষতি করতে চেয়েছিল’ দাবি ট্রাম্পের, ঘটনাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বললেন বার্নহ্যাম

সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে আটক পাঁচজনই ব্রিটিশ নাগরিক, সবাই লন্ডনের বাসিন্দা এবং বয়স বিশের কোঠায়
রাতের অন্ধকারে একটি গ্রাম্য সড়কে তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান। কয়েক মিনিট দূরেই এমন একটি বিমানঘাঁটি, যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার ৯৯৯ নম্বরে ফোনের পর শুরু হওয়া সেই ঘটনা এখন ব্রিটেনের বড় সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তে পরিণত হয়েছে। আর সোমবার পুলিশ জানাল, আটক পাঁচজনই ব্রিটিশ নাগরিক, সবাই লন্ডনের বাসিন্দা এবং বয়স বিশের কোঠায়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের বয়স ২৪, একজনের ২৫ এবং আরেকজনের ২৩ বছর। তিনজন ওয়েস্টমিনস্টার, একজন ক্যামডেন এবং একজন উইলসডেনের বাসিন্দা। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যেতে পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি পেয়েছে। এখনও কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি।
রবিবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের দিকে তিনটি সন্দেহজনক যান যাচ্ছে বলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সশস্ত্র কর্মকর্তারা হুইলফোর্ড এলাকায় গিয়ে পাঁচজনকে প্রথমে বিস্ফোরক আইনে অপরাধের সন্দেহে আটক করেন। পরে সন্ত্রাস আইনের ৫ ধারায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহেও তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
দ্য গার্ডিয়ানের সূত্র বলেছে, ভ্যানগুলোতে পাওয়া কিছু উপকরণ প্রাথমিকভাবে তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক যন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফল এখনও চূড়ান্ত নয়। সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী রোবট ও বিশেষজ্ঞ দল তিনটি ভ্যান পরীক্ষা করছে। প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা ঘিরে রাখা হয় এবং হুইলফোর্ডের ৮৫টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সন্দেহভাজনেরা ঘাঁটিতে “বড় ক্ষতি” করতে চেয়েছিল এবং তাঁদের ওপর দীর্ঘদিন নজর রাখা হচ্ছিল। তিনি বলেছেন, “ব্রিটেনের সঙ্গে কাজ করে অসাধারণ কাজ হয়েছে।” তবে দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানটি আগে থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয়নি। স্থানীয় একজন সন্দেহজনক আচরণ দেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পরই পুলিশ সক্রিয় হয়। ফলে ট্রাম্পের ‘দীর্ঘদিন নজরদারি’র দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ঘটনাটিকে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলেছেন। লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে থাকা অবস্থায় তিনি ঘটনার হালনাগাদ নিচ্ছিলেন এবং এ কারণে সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের একটি ফুটবল ম্যাচেও অংশ নেননি। তাঁর বক্তব্য, জনগণের নিরাপত্তায় সরকার “প্রয়োজনীয় প্রতিটি পদক্ষেপ” নেবে।
তদন্তকারীরা সম্ভাব্য বিদেশি সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখছেন। ইরান-যোগ একটি সম্ভাব্য দিক হিসেবে বিবেচনায় আছে, তবে পুলিশ বলেছে, কোনও উদ্দেশ্য বা বিদেশি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের ভিকি ইভান্সও ঘটনার উদ্দেশ্য নিয়ে জল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির গুরুত্বও তদন্তের মাত্রা বাড়িয়েছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়েটি বি-১ ও বি-৫২-এর মতো ভারী মার্কিন বোমারু বিমান পরিচালনার উপযোগী। ইরান সংঘাতে মার্কিন অভিযানে ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়েছে। জুলাইয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত যেকোনও ঘাঁটিকে তারা “বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
এখন তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন পাঁচ যুবকের পরিচয় নয়, বরং তিনটি ভ্যানে ঠিক কী ছিল, কেন তারা ফেয়ারফোর্ডের দিকে যাচ্ছিল এবং এই ঘটনার পেছনে কোনও বৃহত্তর নেটওয়ার্ক ছিল কি না।



