বিদেশি অনুদানের অভিযোগ
রিফর্ম ইউকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তে পুলিশ
- নির্বাচনী আইন ভাঙার অভিযোগ
- বিদেশি অর্থ নেওয়ার চেষ্টার ভিডিও সামনে আসার পর তদন্তে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড

অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে-র বিরুদ্ধে বিদেশি অনুদান নেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ
নির্বাচনের আগে নতুন ঝড় উঠল ব্রিটেনের রাজনীতিতে। অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে-র বিরুদ্ধে বিদেশি অনুদান নেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ। অভিযোগ, নির্বাচনী আইন এড়িয়ে বিদেশি অর্থ গ্রহণের পথ খোঁজা হয়েছিল দলের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মাধ্যমে।
বুধবার বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি গোপন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর পুলিশ তাদের তদন্ত বিস্তৃত করেছে। ব্রিটিশ নির্বাচনী আইনে বিদেশি উৎস থেকে রাজনৈতিক অনুদান নেওয়া নিষিদ্ধ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় চ্যানেল ফোরের একটি গোপন অনুসন্ধানে। সেখানে দেখা যায়, রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যান জুকস ও জেমস অর বিদেশি অর্থ গ্রহণের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সাংবাদিক নিজেকে বিদেশি ধনকুবেরের ছেলে পরিচয় দিয়ে অনুদানের বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন।
ওই অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগকারী ব্যক্তি রিফর্ম ইউকের উপকারে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থের জনমত জরিপের খরচ বহন করেছিলেন, কিন্তু তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এটি নির্বাচনী নিয়ম ভঙ্গের আওতায় পড়তে পারে।
অভিযোগ সামনে আসার পর ড্যান জুকস ও জেমস অর দুজনেই পদ ছাড়েন। তারা কোনও বেআইনি কাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রিফর্ম ইউকে জানিয়েছে, তারা তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করবে এবং দলের পক্ষ থেকে কোনও অবৈধ বিদেশি অর্থ গ্রহণ করা হয়নি।
নাইজেল ফারাজও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার দলের বিরুদ্ধে “ফাঁদ পাতা” হয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলো বলছে, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত মন্তব্যের নয়; এটি ব্রিটিশ গণতন্ত্রে রাজনৈতিক অর্থায়নের স্বচ্ছতার প্রশ্ন।
একই সঙ্গে ব্রিটেনের নির্বাচনী কমিশনও জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুলিশ ও কমিশনের তদন্ত এখন পাশাপাশি চলছে।
এই বিতর্ক আরও বড় হয়েছে কারণ রিফর্ম ইউকের অর্থায়ন নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। দলের নেতা ফারাজের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি বড় অনুদান, বিশেষ করে বিদেশে বসবাসকারী দাতাদের অর্থ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছে। দলটি অবশ্য সব ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনে চলার দাবি করেছে।
ব্রিটেনে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অনুদান গ্রহণ করতে হয়। বিদেশি নাগরিক বা অনুমোদিত নয় এমন উৎস থেকে অর্থ নেওয়া আইনত অপরাধ। ফলে রিফর্ম ইউকের বিরুদ্ধে এই তদন্ত শুধু একটি দলের আর্থিক বিষয় নয়; এটি ব্রিটিশ নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে।
আগামী নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা বাড়াতে থাকা রিফর্ম ইউকের জন্য এই তদন্ত তাই বড় রাজনৈতিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিবাসন ও ব্রিটিশ পরিচয়ের প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত দলটিকে এখন নিজের অর্থের উৎস নিয়েও জবাব দিতে হচ্ছে।



