ঘাঁটির কাছে মুখোশধারীদের বড় দল দেখে খবর দেন কৃষক: ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ছবি: বিসিবি
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তদন্ত ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’ বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তবে তদন্ত চলমান থাকায় ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে বা তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।
সোমবার সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্ট্রিটিং বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে তিনি খুব সীমিত তথ্যই প্রকাশ করতে পারবেন। কারণ তদন্তের পাশাপাশি বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কার্যক্রমও চলছে। তার ভাষায়, নিরাপত্তা বাহিনী কীভাবে অভিযান পরিচালনা করে, সে বিষয়ে বেশি তথ্য প্রকাশ করলে তা ভবিষ্যতে যারা যুক্তরাজ্যের ক্ষতি করতে চায়, তাদের জন্য মূল্যবান তথ্য হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে স্থানীয় এক কৃষক ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে ‘মুখোশ ও হুড পরা বড় একটি দল’ দেখে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। স্ট্রিটিং ওই ব্যক্তির সতর্কতার প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি ঘটনাটির ‘আংশিক চিত্র’ দেখতে পেয়েছিলেন। এর বেশি তথ্য প্রকাশ করলে তদন্তের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
রবিবার ঘটনায় পাঁচজনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘাঁটির দিকে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক যানও পরীক্ষা করছে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল। ঘটনাটির পর হুইলফোর্ড এলাকার ৮০টির বেশি বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়েছিল।
স্ট্রিটিং স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের সতর্কতা ও ধৈর্য দেখানোর জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নয় যুক্তরাজ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, এ বিষয়ে তথ্য ‘খুব শিগগির’ প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে স্ট্রিটিংকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, তথ্য প্রকাশের সময় নির্ভর করবে পুলিশের চলমান অভিযানের ওপর। এই পর্যায়ে এ বিষয়ে অনুমান করতে চান না তিনি।
স্ট্রিটিং বলেছেন, ‘জনসাধারণকে জানানোর মতো তথ্য পাওয়া মাত্রই আমরা জানাব। আমি শুধু মানুষকে একটু ধৈর্য ধরার অনুরোধ করব, যাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কাজ করার সময় ও সুযোগ পায়।’
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ করতে চেয়েছিলেন। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য বা ইরানের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ফেয়ারফোর্ড
গ্লুচেস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি। দীর্ঘ রানওয়ের কারণে সেখানে মার্কিন ভারী বোমারু বিমানও পরিচালনা করা যায়। অতীতে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক অভিযানে ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানেও মার্কিন যুদ্ধবিমান ব্যবহারের জন্য ফেয়ারফোর্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘাঁটিটির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। প্রতিবছর এখানে রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্যাটু নামে বড় সামরিক বিমান প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত এ আয়োজনে বিপুলসংখ্যক দর্শক অংশ নেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ সালের আয়োজন বাতিল করা হয়েছিল।
আয়োজকরা জানিয়েছিলেন, ফেয়ারফোর্ডে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বাড়তি সামরিক কার্যক্রমের কারণে বড় জনসমাগমের আয়োজন করা নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত হবে না।
ফলে এবার ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক যান ও পাঁচজনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা নয়, ঘাঁটিটির সামরিক গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।
তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। পাঁচজন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে। তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং কোনো বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না।
সূত্র: বিবিসি




