জলবায়ুর আগুনের মধ্যেই সবুজ ব্রিটেনের ডাক
- কমিউনিটি-নির্ভর সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে জোর
- জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নতুন সবুজ শিল্প বিপ্লবের ডাক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু বদলের অভিঘাত আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, তার প্রভাব ইতিমধ্যেই ব্রিটেনের মানুষের জীবনে পৌঁছে গিয়েছে। তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানলের অভিজ্ঞতার পর এবার দেশের শক্তি ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার ডাক দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি থেকে ব্রিটেনকে অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে অটল থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম তাঁর লেখা নিবন্ধে জানিয়েছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও জলবিদ্যুৎভিত্তিক কমিউনিটি প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দেশের সবুজ জ্বালানি পরিবর্তনের অংশীদার করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
বার্নহ্যাম লিখেছেন, “আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, লেবার যে প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছে, তা আমরা পূরণ করব এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নেট জিরোতে পৌঁছব।”
তিনি আরও বলেছেন, ব্রিটেনকে “নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে” এবং সবুজ রূপান্তরকে শুধু পরিবেশ রক্ষার প্রকল্প হিসেবে নয়, দেশের শিল্প পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। তাঁর মতে, আগামী বছরগুলোতে ব্রিটেনের যাতায়াত ব্যবস্থা, বাড়ি নির্মাণ পদ্ধতি এবং শক্তি উৎপাদনের ধরন বদলাতে হবে।
বার্নহ্যামের নতুন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘পিপলস পাওয়ার’ প্রকল্প। প্রায় ৩ কোটি পাউন্ডের তহবিল দিয়ে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোকে নিজস্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হবে। গ্রামের মাঠে বায়ু বিদ্যুৎ, লাইব্রেরির ছাদে সৌর প্যানেল বা স্থানীয় নদীতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, যে কোনও উপযোগী উদ্যোগে জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
বার্নহ্যাম লিখেছেন, “ব্রিটেনজুড়ে মানুষ তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিচ্ছে যেমন পাব, লাইব্রেরি, অবসরকেন্দ্র। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই শক্তির ক্ষেত্রেও একই কাজ করেছেন।”
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান এমন সময়ে সামনে এল, যখন তাঁর সরকার উত্তর সাগরের জ্যাকড ও রোজব্যাঙ্ক তেল-গ্যাস প্রকল্প নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির কিছু এমপি মনে করছেন, নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প অনুমোদন করলে সরকারের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলিও এ নিয়ে সমালোচনা করেছে।
এর আগে গ্রীষ্মে ব্রিটেনে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের সময় বার্নহ্যামের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। বিরোধী ও পরিবেশ সংগঠনগুলোর একাংশ অভিযোগ করেছিল, জলবায়ু সংকট নিয়ে তাঁর অবস্থান যথেষ্ট দৃশ্যমান ছিল না। তবে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
বার্নহ্যামের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ, একদিকে সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ কমানো, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলা। তাঁর দাবি, নেট জিরো শুধু পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্য নয়, এটি ব্রিটেনকে নতুন শিল্প যুগে নিয়ে যাওয়ার সুযোগও।



