যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বার্নহ্যামকে

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: রয়টার্স
আই হ্যাভ এ প্ল্যান। এই একটি বাক্য দিয়েই সবাইকে চমকে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ তার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে লেবার সরকারের আপাতত মেয়াদ আরও তিন বছর হলেও, তিনি স্বপ্নের বীজ বুনেছেন দশ বছরের। এখন সময়ই বলে দেবে কতটা সফলভাবে উতরে যাবেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। নাকি ব্যর্থতার গ্লানি আষ্টেপৃষ্ঠে ধরবে তাকেও।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে মোকাবিলা করতে হবে বিশাল সব চ্যালেঞ্জের। ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্যে অথনৈতিক ভঙ্গুরতা, স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপড়েন, প্রতিরক্ষা খাতের বাজেট, জ্বালানি ও খাদ্যের উচ্চমূল্য, বৈশ্বিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জটিল পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা— সব দিকেই নজর দিতে হবে বার্নহ্যামকে। তবে এরই মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন তিনি। জ্বালানি মূল্যের দাম কমাতে উত্তর সাগরে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেছেন। পাশাপাশি ছোট ছোট ব্যবসায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ হতে বলেছেন লেবার পার্টির এ নেতা। তবে বার্নহ্যাম সরকারের অর্থনীতি কতটা গতি পাবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী অর্থমন্ত্রীর ওপর। সরকার গঠনের পর লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে, সেদিকেও কাজ করতে হবে তাকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও কৌশলগত সম্পর্ক ধরে রাখতে হবে বার্নহ্যামক।
এদিন তৃতীয় রাজা চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন স্যার কিয়ার স্টারমার। তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি বাকিংহাম প্যালেস থেকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যান। সেখানে দেওয়া এক ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বললেন, আমাদের আরও ভালো করতে হবে। এই মুহূর্তটি ব্রিটেনের জন্য একটি ‘সার্কিট ব্রেকার’ বা মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হতে চলেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোর রূপরেখা আগামীকাল থেকেই ঘোষণা করা হবে।
ব্রেক্সিট-পরবর্তী এক দশকে এটি যুক্তরাজ্যের আরেকটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে গত চার বছরে দেশটির পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হলেন।




