ফ্রান্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু

বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা দল। ফাইল ছবি
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে অবারভিলিয়েতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে বাংলাদেশি এক শিশুর। শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে রু পল-ভেরলেনের একটি প্যাভিলিয়ন বাড়িতে বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা দল। প্রায় ১১০ জন দমকলকর্মী ও বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন অবারভিলিয়ে মেয়র সফিয়েন কারুমি। তিনি বলেছেন, ‘আজ আমাদের শহর শোকাহত।’ ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মঁদ, ল্য পারিজিয়াঁ, আরটিএল, টিএফওয়াঁ ইনফো এবং ইউরোপ ওয়ান ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
বিস্ফোরণের পর রু পল-ভেরলেন এলাকায় তৈরি হয় ব্যাপক আতঙ্ক। বিকট শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় দ্রুত ওই এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে কাজ করেন।
উদ্ধার অভিযানে প্রায় ১১০ জন দমকলকর্মী অংশ নেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ। আহতদের ঘটনাস্থল থেকে বের করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, নিহত শিশুটির নাম নাহিল। তার বাবা রাসেল। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামে। শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রাথমিক প্রতিবেদনে শিশুটির নাম বা বাংলাদেশি পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নাহিলের নাম ও বাংলাদেশি পরিচয়ের বিষয়টি জানা গেছে।
বিস্ফোরণের প্রাথমিক কারণ হিসেবে গ্যাস লিকের বিষয়টি সামনে এসেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মঁদ, ল্য পারিজিয়াঁ, আরটিএল, টিএফওয়াঁ ইনফো এবং ইউরোপ ওয়ানের প্রতিবেদনে গ্যাস লিকের পর বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গ্যাসের উৎস কোথায় ছিল এবং ঠিক কীভাবে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়, তা এখনো তদন্তাধীন।
ঘটনার পর ববিনি প্রসিকিউটরের অধীনে বিচারিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, ভবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গ্যাস লিকের উৎস খতিয়ে দেখছেন।
অবারভিলিয়ে মেয়র সফিয়েন কারুমি শোক প্রকাশের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দমকলকর্মী, পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীদের প্রশংসা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পৌরসভার একটি কক্ষ, অতিরিক্ত শয্যা এবং একটি স্টেডিয়ামের চেঞ্জিং রুম তাদের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মেয়রের শোকবার্তা এবং ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দুই বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যু এই দুর্ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।





