ডায়ানার মৃত্যুর খবরে ‘লটারি জেতার মতো খুশি’ ছিলেন রাজা

চার্লস ও ডায়ানা ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর থেকে আলাদা থাকছিলেন এবং ১৯৯৬ সালের আগস্টে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।
প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু নিয়ে প্রায় তিন দশক পর আবারও বিস্ফোরক দাবি সামনে এনেছেন তার ভাই আর্ল স্পেন্সার। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হতে যাওয়া নিজের নতুন স্মৃতিকথা ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’-এর আগাম প্রকাশিত অংশে তিনি দাবি করেছেন, ১৯৯৭ সালে প্যারিসে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর তৎকালীন প্রিন্স চার্লস তাকে ফোন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে বইটির ওই অংশ প্রকাশের পর দাবিটি সামনে আসে।
স্পেন্সারের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য যারা তাকে ফোন করেছিলেন তারা সবাই শোকে স্তব্ধ ছিলেন, অনেকে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। কিন্তু চার্লসের কণ্ঠ তার কাছে ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি লিখেছেন, চার্লসকে তার কাছে মনে হয়েছিল “লটারি জেতা কারও মতো অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত” এবং ডায়ানার মৃত্যুর মতো ভয়াবহ ঘটনার পরও তার কথাবার্তা ছিল অস্বাভাবিকভাবে নির্লিপ্ত। স্পেন্সার আরও লিখেছেন, তার ধারণা ছিল ডায়ানার মৃত্যুর পর চার্লস হয়তো প্রথমে ভেবেছিলেন, এই ঘটনা তার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিগত জীবন এবং যাকে তিনি ভালোবাসতেন তাকে বিয়ে করার পথ কতটা সহজ করে দিতে পারে। তবে এটি আর্ল স্পেন্সারের নিজস্ব স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়ন; প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই ধারণার পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
বইটিতে ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়েও তৎকালীন প্রিন্স চার্লস ও আর্ল স্পেন্সারের মধ্যে তীব্র বিরোধের কথা উঠে এসেছে। স্পেন্সারের দাবি, রাজপ্রাসাদের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন তাকে জানান যে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারিকে তাদের মায়ের কফিনের পেছনে হাঁটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, তখন তিনি এর বিরোধিতা করেন। তার মতে, এত অল্প বয়সী দুই ছেলের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টকর অভিজ্ঞতা হবে। স্পেন্সারের ভাষ্য অনুযায়ী, চার্লস তখন তাকে মনে করিয়ে দেন যে ১৯৭৯ সালে লর্ড মাউন্টব্যাটেনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তিনিও কফিনের পেছনে হেঁটেছিলেন। জবাবে স্পেন্সার বলেন, চার্লসের বয়স তখন ছিল ৩০ বছর, অথচ উইলিয়াম ও হ্যারি ছিল শিশু। স্পেন্সারের দাবি, এ কথা শুনে চার্লস প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং স্পেন্সার পরিবারের ‘কর্তব্যবোধ’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এমনকি উত্তপ্ত ফোনালাপের একপর্যায়ে চার্লস ডায়ানাকে নিয়ে বলেছিলেন, “নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা তাকে খুব শিগগিরই ভুলে যাব”—এমন দাবিও করেছেন ডায়ানার ভাই। এরপর তিনি ফোন রেখে দেন বলে বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আর্ল স্পেন্সারের এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাকিংহাম প্যালেস। রাজপ্রাসাদের এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা সাধারণত কোনো বই নিয়ে মন্তব্য করেন না। তবে পরিবারের একজন সদস্যকে হারানোর গভীর শোক বহু বছর পরও একজন মানুষের স্মৃতি, বিচারবোধ এবং অতীত ঘটনাকে মনে করার ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে। এর মাধ্যমে স্পেন্সারের স্মৃতিচারণের নির্ভুলতা নিয়ে পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তুলেছে প্যালেস।
চার্লস ও ডায়ানা ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর থেকে আলাদা থাকছিলেন এবং ১৯৯৬ সালের আগস্টে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। এর প্রায় এক বছর পর, ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা যান প্রিন্সেস ডায়ানা। তার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ঢেউ নেমে এসেছিল। আর এখন, প্রায় তিন দশক পর ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বইয়ে উঠে আসা এসব দাবি আবারও আলোচনায় এনেছে রাজপরিবারের সেই সংকটময় সময়, চার্লস-ডায়ানার তিক্ত সম্পর্ক এবং ডায়ানার মৃত্যুর পর রাজপরিবারের ভেতরে আসলে কী ঘটেছিল—সেই পুরোনো প্রশ্ন।



