‘ইউরোপ জ্বলছে, ব্রিটেন বেহালা বাজাচ্ছে’, বার্নহ্যামকে বিরোধী নেত্রী
- রাশিয়ার বাড়তে থাকা তৎপরতার মধ্যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অর্থায়ন যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত
- কল্যাণ ব্যয় কমিয়ে প্রতিরক্ষায় অর্থ বাড়ানোর দাবি ব্যাডেনকের

ড্রোন ঢুকছে ন্যাটোর আকাশে, সাইবার হামলা আর নাশকতার অভিযোগে বাড়ছে ইউরোপের উদ্বেগ। ঠিক সেই সময় ব্রিটেনে প্রশ্ন উঠেছে, যদি বিপদ আরও কাছে আসে, দেশটির সেনাবাহিনী কি প্রস্তুত? সেই বিতর্কেই প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেত্রী কেমি ব্যাডেনক। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার অভিযোগ, “ইউরোপ যখন জ্বলে ওঠার ঝুঁকিতে, তখন আমাদের সরকার বেহালা বাজাচ্ছে।”
ব্যাডেনকের দাবি, রাশিয়া সপ্তাহের পর সপ্তাহ পশ্চিমা দেশগুলোর সংকল্প পরীক্ষা করছে, অথচ ব্রিটিশ সরকার প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়ার বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীকে “এ বার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার” আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ফ্রান্স ও পোল্যান্ড রুশ হুমকির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে, ব্রিটেনকেও দ্রুত প্রস্তুতি বাড়াতে হবে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিরক্ষা বনাম সামাজিক কল্যাণের ব্যয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে বার্নহ্যাম বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তা “সামাজিক নিরাপত্তার বিনিময়ে” নিশ্চিত করা যাবে না। ব্যাডেনকের মতে, কল্যাণ ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রীর অনীহা মস্কোর কাছেও ভুল বার্তা পাঠাতে পারে। তাঁর দল আবাসনভাতায় সীমা বসিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ড প্রতিরক্ষায় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। সরকার বলেছে, এমন ব্যবস্থা বহু পরিবারকে গুরুতর আবাসন সমস্যায় ফেলতে পারে।
ব্রিটেনের সাবেক নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল লর্ড ওয়েস্টও সেনাবাহিনীর বর্তমান অবস্থাকে “বেশ নাজুক” বলেছেন। তাঁর মতে, সরাসরি যুদ্ধ না হলেও সাইবার হামলা, ড্রোন তৎপরতা ও সমুদ্রতলের তারে হুমকির কারণে ইউরোপ ইতিমধ্যেই এক ধরনের ‘ধূসর অঞ্চলের’ সংঘাতে রয়েছে। সাবেক সেনাপ্রধান লর্ড ড্যানাটও প্রতিরক্ষা অর্থায়নে দ্রুত স্পষ্ট পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি হিসাবে, ব্রিটেন ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের ২ দশমিক ৭ শতাংশে তুলবে। ন্যাটোর অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী ব্যয় পর্যালোচনায় ৩ শতাংশে পৌঁছানোর সময়সীমা জানানো হবে। জুনে ঘোষিত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় চার বছরে প্রায় ২৯ হাজার ৮০০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর '১০ ডাউনিং স্ট্রিট' অবশ্য নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের বক্তব্য, রাশিয়ার তৎপরতার জবাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো, রুশ গোয়েন্দাদের বহিষ্কার, নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ অর্থের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থনও অব্যাহত থাকবে।
ইউরোপে রুশ তৎপরতা বাড়ার অভিযোগের মধ্যেই তাই ব্রিটেনের নতুন রাজনৈতিক প্রশ্ন, নিরাপত্তার জন্য কতটা অর্থ এখনই ব্যয় করা হবে, আর সেই অর্থ আসবে কোথা থেকে?



