গ্রীষ্মে তীব্র গরম কি ইউরোপের নতুন বাস্তবতা

তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের প্যারিসে আইফেল টাওয়ারের পাশের ট্রোকাডেরো ফোয়ারায় সাতার কাটছেন কয়েকজন। ছবি: রয়টার্স
তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ। রেকর্ড-ভাঙা গরমে অসুস্থ হচ্ছেন মানুষ, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারণে মৃত্যু ছাড়িয়েছে হাজারের বেশি।
গবেষকরা বলছেন, এই ধরনের দৃশ্য হয়তো ইউরোপে নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হতে পারে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
রবিবার জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র এবং পোল্যান্ডে তাপমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস; বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থা। এ সময় ফ্রান্সে দিনের গড় তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও একটি শহরে তা পৌঁছেছে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এতে অতিরিক্ত এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) জানিয়েছে, শুধু গত গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহের কারণেই ১২টি ইউরোপীয় দেশে জলবায়ু-সম্পর্কিত কারণে আনুমানিক ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংস্থাটির গবেষণা বলছে, ২০০৩ সালের তুলনায় এখন তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা দশ থেকে শতগুণ বেশি। ৫০ বছর আগে এটি ছিল অচিন্তনীয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক ডক্টর হান্স ক্লুগে বলছিলেন, ইউরোপের উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ুতে তাপজনিত কারণে মৃত্যু নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।
তিনি জানালেন, ১৯৯০-এর দশক থেকে প্রতি বছর প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে গড়ে ৫২ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এই সংখ্যা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এটাই কি নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা? বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।
ডব্লিউডব্লিউএর তথ্য বলছে, ১৯৭৬ সালের জুন মাসে তাপপ্রবাহের সময় গড় তাপমাত্রা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। এমনকি ২০০৩ সালেও তাপমাত্রা কম ছিল ২ ডিগ্রি।
ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের গবেষক ডা. অক্ষয় দেওরাস বলেছেন, ‘এটি এমন দৌড় প্রতিযোগিতা, যার শুরুর রেখা গন্তব্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা হয়েছে।’ তার ভাষ্য, এর মূল কারণ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।
ইউরোপীয় কমিশনের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপের্নিকাসের তথ্য বলছে, ১৯৮০-এর দশক থেকে ইউরোপের তাপমাত্রা বিশ্বের গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ গতিতে বাড়ছে।
দেওরাসের ভাষ্য, এর ফলে একসময় যেটি বিরল বলে বিবেচিত হতো, তা এখন অনেক বেশি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
ডব্লিউডব্লিউএর মডেলিং বলছে, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে, কয়েক দশক পরপর এ ধরনের তাপপ্রবাহ দেখা দেবে। যা এখন চরম বলে মনে হচ্ছে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে ইউরোপের সাধারণ গ্রীষ্মের চিত্র।






