ইউরোপজুড়ে দাবানলের তাণ্ডব : ফ্রান্সে ইইউর সহায়তা, স্পেনে জরুরি অবস্থা

ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে
ইউরোপের তিন দেশ ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। নেপথ্যে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও ঝোড়ো বাতাস। আগুনের তীব্রতায় হাজার হাজার মানুষকে সরানো হয়েছে নিরাপদ স্থানে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। এখানকার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ-ফেরে উপদ্বীপ সম্পূর্ণ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের জিরোন্দ ও লন্দ বিভাগের দুটি বড় দাবানলে ইতোমধ্যে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে সড়ক ও সমুদ্রপথে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুধু ক্যাপ-ফেরে এলাকা থেকেই সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে। নৌপথে শত শত মানুষকে স্থানান্তর করা হয়েছে আর্কাশোঁ শহরে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে প্রায় ৮০০ দমকলকর্মী, শত শত জেন্ডার্ম, সেনাসদস্য, অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও হেলিকপ্টার। তবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রা, শুষ্ক আবহাওয়া এবং শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কঠিন হয়ে উঠেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও জরুরি সহায়তা দ্রুত পাওয়া যাবে বলে আশা করছে ফ্রান্স।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে দেশে দাবানলে ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। সরকার সতর্ক করে বলেছে, গ্রীষ্মের মৌসুম এখনও শেষ হয়নি। ফলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশ এবং আভিলা প্রদেশে দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত চারটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান চেয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রিস দুটি বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলও দাবানলের কবলে পড়েছে। দেশটির দমকল বাহিনী একাধিক এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া আগুন নেভানোর কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরার প্রকোপ বাড়ছে। ফলে দাবানল আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং অল্প সময়েই বিশাল বনাঞ্চল ধ্বংস করছে। চলতি বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে দাবানলে পুড়ে যাওয়া মোট ভূমির পরিমাণ ইতোমধ্যে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আগুন নেভানো নয়, বন ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ আরও জোরদার না হলে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দাবানল আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।




