প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম
গৃহহীনতা দূর করাই প্রথম অগ্রাধিকার
- আগামী এক দশকের জন্য একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবে নতুন সরকার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার ভাষণ দিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভাষণেই গৃহহীনতা দূর করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর '১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট'-এর সামনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, মানুষের জীবনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আগামী এক দশকের জন্য একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবে তার সরকার।
বার্নহ্যাম বলেছেন, ব্রিটেনের মানুষের এখনই কিছুটা স্বস্তি প্রয়োজন। সে জন্য অচিরেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে বছরের শেষ দিকে দেশের অর্থনীতি ও জনসেবা খাতের উন্নয়নে ১০ বছর মেয়াদি একটি জাতীয় পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আরও বেশি কাউন্সিল হাউজ নির্মাণ এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা হবে ওই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গৃহহীনতার অবসান ঘটানো তার সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। এজন্য অতিরিক্ত ৩৪ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়া হবে। এই অর্থ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় বসবাসকারী হাজারো মানুষকে স্থায়ী আবাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি লন্ডনের গৃহহীন মানুষের সহায়তায় কাজ করা দাতব্য সংস্থা দ্য প্যাসেজ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে স্বেচ্ছাসেবী ও গৃহহীন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
বার্নহ্যাম বলেছেন, রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, ঐক্য, সততা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই তার সরকারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কল্যাণ ব্যয়ে সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারও পূরণ করবে তার সরকার।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেওয়া এ ভাষণে বার্নহ্যাম দেশের মানুষের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, যুক্তরাজ্যকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। তার ভাষায়, ‘আমরা সবাই মিলে কাজ করলে দেশের জন্য নতুন আশা ও নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।’




