ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলও কব্জায় নিতে চান ট্রাম্প

আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ লিংকসে ‘অ্যামজেন আইরিশ ওপেন’ টুর্নামেন্টে হাজির ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের শুরুতেই চমকে দেন বিশ্বকে। কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই সেনা পাঠিয়ে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে নিয়ে যান দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। এরপর দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
এক মাস পর প্রায় একই দৃশ্যপট, তবে এবার মধ্যপ্রাচ্যে। ফেব্রুয়ারি যখন শেষ হবে হবে করছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায় ইরানে। হত্যা করে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং শীর্ষ একাধিক সামরিক কর্মকর্তাকে।
ইরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই ছিল ট্রাম্পের লক্ষ্য। কিন্তু যুদ্ধের এতদিন পরও সে ইচ্ছে পূরণ হয়নি তার। এখন ট্রাম্প বলছেন, ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলের ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে তার দেশ।
আয়ারল্যান্ডে সফরের সময় গতকাল রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট সে ইঙ্গিতই দিলেন। বললেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অবস্থান করে সেখানকার তেল নিজেদের দখলে রাখতে পারে।
এমন এক সময়ে ট্রাম্প তার এ পরিকল্পনার কথা জানালেন যখন ইরানকে আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর কারণও অবশ্য রয়েছে। যুদ্ধ থেমে থেমে চললেও বিশ্ববাজারে তেলের বাজার স্বাভাবিক হয়নি। হরমুজ প্রণালীও ইরানের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে পারেনি ওয়াশিংটন। তেহরানের সামরিক সামর্থ্য খর্ব করতে ট্রাম্প সফল হয়েছেন, তাও মনে হচ্ছে না। কেননা, পারস্য উপসাগরের দেশটি আক্রান্ত হলে প্রতিশোধ নিতে নিয়মিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা তার শক্তিমত্তাকেই তুলে ধরছে। আর শাসনব্যবস্থার বদল হওয়ার পরিবর্তে ইরানে কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ আরো পোক্ত হচ্ছে।
তবে এতকিছুর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা করছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হবে এ বছরেই। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হয়তো যুদ্ধ শেষ হবে।
ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফর ছিল মূলত কয়েকটি বৈঠকের পাশাপাশি গলফ খেলা উপভোগ করার জন্য। সেখানে আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা দেখার ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটলে পেট্রলের দাম কমবে। যার গতি হবে উপর থেকে পাথর পড়ার মতো দ্রুত।
তবে সে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কারণ ইয়েমেনে ফের যুদ্ধের বিস্তার ঘটায় সেখানে সৌদি আরবও তেল রপ্তানি নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে। সম্প্রতি একটি ড্রোন হামলা হওয়ার কারণে রিয়াদ একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়। যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। আজ দুপুরে প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়ে তেলের দাম হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার।
এদিকে বক্তব্যে ইরানিরা ‘শান্তি চুক্তির’ জন্য ছটফট করছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, ‘ইরান শান্তির জন্য ক্রমাগত আহ্বান জানাচ্ছে।’ তবে তিনি ‘বাজে’ কোনো চুক্তি করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। বললেন, ‘আমি কেবল সঠিক চুক্তিটিই করব। কোনো বাজে চুক্তি করব না।’
ইরান যদিও শান্তির জন্য প্রস্তাব দেওয়ার কথা একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে।
চুক্তি না হলে ভিন্ন একটি প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেটি হচ্ছে ইরানে কর্তৃত্ব বজায় রাখা। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি টেনে আনেন ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ; বললেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বেরিয়ে আসব—যদি না আমরা থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ৬ হাজার কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেল মজুত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই ঐতিহাসিক লেনদেন আমেরিকার তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াবে, আমাদের তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে এবং সব আমেরিকানের জন্য গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে।’
যাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজও। তিনি বলেছেন, ‘এটি তার দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।’
সেই চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে পাওয়া মার্কিন আয় দিয়ে যুদ্ধের খরচ বহুবার উঠে এসেছে।
সূত্র: রয়টার্স









