ডোনাল্ড ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

ভেনেজুয়েলার পুয়ের্তো কাবেলোর কাছে এল পালিতো টার্মিনালে গিনির পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এমটি বান্দ্রা। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেলের মজুদ সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা। এবার দেশটির সঙ্গে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন (৬ হাজার ৫০০ কোটি) ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ পেতে চলেছে ওয়াশিংটন।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুদ দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াবে। এর ফলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দামও কমবে উল্লেখযোগ্য হারে।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে সম্পন্ন করেছেন এ চুক্তি। বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বে হওয়া এ চুক্তিতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহরণ’ করার পর দেশটির সঙ্গে এমন চুক্তির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে আকস্মিক অভিযানে মাদুরোকে নিজ বাসভবন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেওয়া হয়। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল থেকে পাওয়া অর্থ তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই অর্থ ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার হবে জনগণের স্বার্থে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি এ চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এই সিদ্ধান্ত রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সিবিএস নিউজকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ চুক্তির অধীনে ভেনেজুয়েলার একটি অভিজ্ঞ বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ (জয়েন্ট ভেঞ্চার) গঠন করা হবে, যার ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে মার্কিন সরকারের হাতে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই যৌথ উদ্যোগকে সেদেশের তেল ক্ষেত্রগুলোয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ইজারা বা অনুমোদন দিয়েছে।
এতে দেশটির সরকারি কোষাগারে প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তিটি কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর হয়েছে। এর আওতায় ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার পাবে। এসব ক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকবে।
আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভেনেজুয়েলা। এতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রগুলো লিজ দেওয়ার একটি মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এসব ক্ষেত্র নিলামের মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে।
তবে এ ব্যবস্থায় ভেনেজুয়েলা আইন ও সংবিধানগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ এখনো রাষ্ট্রের হাতে।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে ভেনেজুয়েলার কাছে। দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।
নতুন চুক্তির মাধ্যমে দেশটির তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য আরও বেশি অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে চুক্তিটির কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। কোন কোন তেলক্ষেত্র এর আওতায় থাকবে, কোন কোম্পানিগুলো এতে যুক্ত হবে, কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তেল মজুদের ‘অধিকাংশের নিয়ন্ত্রণ’ নেবে, এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, চুক্তিটি দুই দেশের জন্যই লাভজনক। এতে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামে তেল পাবে। চুক্তিটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মার্কিন বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশ বেড়েছে। এতে মার্কিন নাগরিকদের বেশি দামে তেলের পাশাপাশি নিত্যপণ্য কিনতে হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে বলেও দাবি করেছেন রুবিও।
সূত্র: আল জাজিরা








