ফিরতে চাইলে দুয়ার খোলা , বল এখনও ব্রিটেনের কোর্টেই
- ইংলিশ চ্যানেলের নতুন পথ ঘিরে উদ্বেগ
- তীরে ‘ফেরত পাঠাও’ স্লোগান, উত্তেজনা ব্রিটিশ শহরে
- পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বিক্ষোভকারীদের

ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় ১৪৯ অভিবাসী ব্রিটিশ জলসীমায় পৌঁছতেই হ্যাম্পশায়ারের শান্ত উপকূলীয় শহর গসপোর্টে জমায়েত হন প্রায় একশ অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী। পুলিশের গাড়ি ঘিরে স্লোগান, আতশবাতি, ধস্তাধস্তি, সব মিলিয়ে রবিবার (৪ অক্টোবর) রাতের হাসলার মেরিনা হয়ে ওঠে ব্রিটেনের চলমান অভিবাসন সংকটের নতুন দৃশ্যপট।
সোমবার (৫ অক্টোবর) স্কাই নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌকাটি রবিবার সকালে ফ্রান্সের নরম্যান্ডির উতাহ বিচ এলাকার কাছ থেকে যাত্রা শুরু করে। ফরাসি উদ্ধারকারী জাহাজ সেটিকে ব্রিটিশ জলসীমা পর্যন্ত অনুসরণ করে। পরে রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের দুটি উদ্ধারকারী নৌকা যাত্রীদের নিয়ে রবিবার গভীর রাতে গসপোর্টের হাসলার মেরিনায় পৌঁছায়।
যাত্রীদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রায় একশ বিক্ষোভকারী মেরিনার কাছে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ পুলিশের গাড়ি ঘিরে “শেম অন ইউ” এবং “ডিপোর্ট দ্য লট” স্লোগান দেন। পরিবেশ বেশির ভাগ সময় শান্ত থাকলেও কয়েক দফা পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং আতশবাতি জ্বালানো হয়।
হ্যাম্পশায়ার ও আইল অব ওয়াইট পুলিশ আগেই এলাকায় অতিরিক্ত কর্মকর্তা মোতায়েন করেছিল। জনশৃঙ্খলা আইনে বিক্ষোভকারীদের নির্দিষ্ট এলাকায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। মুখ ঢেকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে পুরো গসপোর্টে ছত্রভঙ্গ করার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়, যা মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নির্দেশ অমান্য করলে গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে পারেন বিক্ষোভকারীরা।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গসপোর্টে নামানো ১৪৯ জনকে এখন কেন্টের স্বল্পমেয়াদি অভিবাসনকেন্দ্রে নেওয়া হবে। সেখানে তাঁদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই করা হবে। সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, ছোট নৌকায় আসা প্রত্যেককে নিরাপদে নামানো, পরীক্ষা এবং নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যে নেওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি রয়েছে।
ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে নৌকাটির যাত্রাপথের কারণে। সাধারণত উত্তর ফ্রান্সের কালে ও ডানকার্ক অঞ্চল থেকে ছোট নৌকা ব্রিটেনের দিকে আসে। কিন্তু গত এক মাসে নরম্যান্ডির এত পশ্চিম দিক থেকে এটি তৃতীয় যাত্রা। গত সেপ্টেম্বরে একই ধরনের একটি নৌকা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সমুদ্রে থাকার পর ৫১ যাত্রী নিয়ে ডোভারে পৌঁছেছিল। তখনও গসপোর্টে সম্ভাব্য আগমন ঠেকাতে বিক্ষোভ হয়েছিল এবং ছয়জন গ্রেপ্তার হন।
সরকারি সাময়িক হিসাবে চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৪৫১ জন ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে এসেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৪৩ শতাংশ কম এবং ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম।
সংখ্যা কমলেও গসপোর্টের রাত দেখাল, ব্রিটেনের অভিবাসন বিতর্কের উত্তাপ কমেনি। সমুদ্রপথে একটি নৌকা তীরে পৌঁছানোর আগেই এখন তার ঢেউ গিয়ে লাগছে স্থানীয় রাজনীতি, পুলিশি নিরাপত্তা আর জনমতের তীরে।



