আইনজীবীদের ব্রিটিশ বারে প্রবেশের পথ সাময়িক স্থগিত করল ব্রিটেন
- বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আবেদনের ঢল

স্বপ্নের দরজাটি বন্ধ হয়নি, কিন্তু চাবি এখন হাতে রাখতে হবে আগেই। বাংলাদেশসহ বিদেশে যোগ্যতা অর্জন করা আইনজীবীদের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে পুনরায় যোগ্যতা অর্জনের পথে বড় পরিবর্তন আনল ব্রিটেনের বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড বা বিএসবি। চাকরি বা প্রশিক্ষণের নিশ্চিত সুযোগ না থাকলে আপাতত নতুন আবেদনই নেওয়া হবে না।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আবেদনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার পর ‘ট্রান্সফারিং কোয়ালিফায়েড লইয়ার’ বা টিকিউএল ব্যবস্থায় নতুন আবেদনের একটি বড় অংশ সাময়িক স্থগিত করেছে বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড। সংস্থাটির নিজস্ব ঘোষণাও একই দিন প্রকাশিত হয়।
টিকিউএল ব্যবস্থা বিদেশে ইতিমধ্যে আইনজীবী হিসেবে যোগ্যতা অর্জনকারীদের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বারে প্রবেশের সুযোগ দেয়। গত তিন বছরে এই পথে আবেদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১-২২ সালে আবেদন ছিল ৩২৫টি, ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩৪টিতে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আইনজীবীরা এখন মোট আবেদনের অর্ধেকেরও বেশি করছেন।
বাংলাদেশি আইনজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা নয়। এখনো আবেদন করা যাবে, যদি আবেদনকারীর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে পিউপিলেজের নিশ্চিত প্রস্তাব থাকে, যার প্রশিক্ষণ ২০২৯ সালের ১ জানুয়ারির আগে শুরু হবে। অথবা এমন টেন্যান্সি বা চাকরির প্রস্তাব থাকতে হবে, যার জন্য ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বারের প্র্যাকটিসিং সার্টিফিকেট প্রয়োজন।
যারা অনলাইনে আবেদন শুরু করেছেন কিন্তু জমা দেননি, তারা আপাতত তা জমা দিতে পারবেন না। তবে ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে জমা দেওয়া আবেদনের প্রক্রিয়া চলবে। নির্দিষ্ট মামলায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আদালতে উপস্থিত হতে চাওয়া বিদেশি আইনজীবীদের অস্থায়ীভাবে বারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পৃথক ব্যবস্থাও চালু থাকছে।
বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ডের মহাপরিচালক ফিল গোল্ডিং বলেছেন, ব্যবস্থাটিকে তাদের এমন আবেদনকারীদের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত করতে হবে, যারা সত্যিই এই বিচারব্যবস্থায় কাজ করবেন। তার ভাষায়, পরিবর্তনটি বিদ্যমান “বড় আবেদনজট” কমাতেও সহায়তা করবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং বাস্তবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কাজের পথ রয়েছে এমন কাউকে নিরুৎসাহিত করা এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য নয়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির উদ্বেগ, অনেক আবেদনকারী শুধু ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বারে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করছেন, কিন্তু পরে সেখানে পেশাগতভাবে কাজ করছেন না। ২০২৩-২৪ সালের সরকারি প্রতিবেদনে বিএসবি জানায়, টিকিউএল আবেদনের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক গোষ্ঠী ছিল পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত। ওই তিন দেশ মিলিয়ে মোট আবেদনের অর্ধেকেরও বেশি ছিল। একই সঙ্গে আবেদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধও প্রশাসনিক চাপ বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের নাম এর আগেও ব্রিটিশ বার পরীক্ষার নিরাপত্তা বিতর্কে এসেছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিলে অনলাইন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের সময় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে অনলাইন পরীক্ষা সাময়িক বন্ধ করেছিল বিএসবি। পরে অনলাইন পরীক্ষায় প্রতারণার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে সব দেশেই সেই পদ্ধতি বন্ধ করে সরাসরি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এটি অবশ্য বর্তমান আবেদন স্থগিতের সঙ্গে সরাসরি কোনো বাংলাদেশি আবেদনকারীর অসদাচরণের প্রমাণ নয়।
ফলে বাংলাদেশের যোগ্য আইনজীবীদের জন্য ব্রিটিশ বারে যাওয়ার রাস্তা শেষ হয়ে যায়নি। বদলেছে রাস্তার প্রথম শর্ত। আগে যোগ্যতা নিয়ে আবেদন করে পরে কাজ খোঁজার সুযোগ থাকলেও, এখন অধিকাংশের ক্ষেত্রে আগে পেশাগত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, তারপরই খুলবে আবেদনের দরজা।



