ব্রিটেনে ক্ষমতার মানচিত্র বদলের সূচনা বার্নহ্যামের

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম- রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডন। সেই চিরাচরিত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আজ শুক্রবার ম্যানচেস্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করলেন ‘নম্বর ১০ নর্থ’, যা ডাউনিং স্ট্রিটের উত্তরাঞ্চলীয় কার্যালয় হিসেবে কাজ করবে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে শুধু প্রতীকী পরিবর্তন নয়, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও ধীরে ধীরে লন্ডনের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হলো লন্ডনের ঐতিহাসিক ‘১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট’। ব্রিটিশ রাজনীতিতে ডাউনিং স্ট্রিট বলতে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সরকারের কেন্দ্রকেই বোঝানো হয়। এবার সেই ঐতিহ্যবাহী কার্যালয়ের আদলে উত্তর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে ‘নম্বর ১০ নর্থ’ চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
ম্যানচেস্টারের হেরন হাউস ভবনে গড়ে ওঠা এই কার্যালয় থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন কাজ করবেন বার্নহ্যাম। এখানেই পুনর্গঠিত ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের বৈঠক হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, আঞ্চলিক মেয়র ও স্থানীয় নেতৃত্ব একসঙ্গে বসে অবকাঠামো, শিল্প, আবাসন, পরিবহণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময় গর্ডন ব্রাউনের আমলে গঠিত এই পরিষদকে নতুনভাবে সক্রিয় করেছে বর্তমান সরকার।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় থেকেই উত্তর ইংল্যান্ডে আরও বেশি ক্ষমতা ও বিনিয়োগের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন বার্নহ্যাম। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সেই অবস্থান থেকেই এবার ১০ নং নর্থ চালুর উদ্যোগ নিলেন তিনি। কার্যালয় উদ্বোধনের পর বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘এটি শুধু উত্তরে আরেকটি নম্বর ১০ নয়, গোটা যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন।’ তার কথায়, বহু দশক ধরে লন্ডনকেন্দ্রিক নীতির ফলে উত্তর ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন অঞ্চল পিছিয়ে পড়েছে। স্থানীয় মানুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েই সেই বৈষম্য কমাতে চান তিনি।
বার্নহ্যাম বললেন, ‘ম্যানচেস্টার থেকেই দেশের পুনঃশিল্পায়ন, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং বিকেন্দ্রীকরণের নতুন ধাপ পরিচালিত হবে। সিদ্ধান্ত আর শুধু মানুষের জন্য নেওয়া হবে না, মানুষের সঙ্গে নিয়েই নেওয়া হবে।’
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও একাধিক মন্ত্রীও নিয়মিত ম্যানচেস্টারে কাজ করবেন। নতুন কার্যালয় থেকে আঞ্চলিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কৌশল এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় তদারকি করা হবে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক দাবি করেছেন, বার্নহ্যাম জাতীয় সমস্যার বদলে আঞ্চলিক রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটি কোনো প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং যুক্তরাজ্যে ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।
ম্যানচেস্টারে নতুন এই দপ্তর চালুর মাধ্যমে বার্নহ্যাম সরকারের বার্তা স্পষ্ট, যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ আর শুধু লন্ডনকেন্দ্রিক থাকবে না; উত্তর ইংল্যান্ডসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অংশগ্রহণেই গড়ে উঠবে নতুন প্রবৃদ্ধির কাঠামো।




