চিঠিতে কী কথা হলো ট্রাম্প-শির?

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। এর আগে দুই নেতার মধ্যে হয়েছে চিঠি বিনিময়। সেই চিঠিতে ইরানকে অস্ত্র না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শি। এমনটাই দাবি ট্রাম্পের।
ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই তিনি চিঠি লিখেছিলেন শিকে।
১৪ এপ্রিল রেকর্ড করা ও ১৫ এপ্রিল প্রচারিত হওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বললেন, ‘আমি যে চিঠিটি লিখেছিলাম, তিনি তার জবাব দিয়েছেন। কারণ আমি শুনেছিলাম যে চীন ইরানকে অস্ত্র দিচ্ছে, মানে, আপনারা তো সবখানেই এটা দেখতে পাচ্ছেন যে অস্ত্র দিচ্ছে চীন।’
‘আমি এমনটা না করার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলাম, আর তিনিও চিঠি লিখে জানিয়েছেন, এমনটা করছেন না’, যোগ করেন ট্রাম্প।
এদিকে ট্রুথ সোশ্যালে বুধবার ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি যে হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছি, তাতে চীন খুব খুশি। আমি এটা তাদের জন্যও করছি এবং সারা বিশ্বের জন্যও। এই পরিস্থিতি ঘটবে না আর কখনো।’
তিনি আরও লেখেন, ‘তারা রাজি হয়েছে ইরানে অস্ত্র না পাঠাতে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমি সেখানে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট শি আমাকে উষ্ণ আলিঙ্গন করবেন। আমরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এবং খুব ভালোভাবে কাজ করছি! এটা কি লড়াইয়ের চেয়ে ভালো নয়?’
‘কিন্তু মনে রাখবেন, প্রয়োজনে আমরা লড়াই করতেও খুব পারদর্শী, যা অন্য সবার চেয়ে অনেক ভালো!’, হুমকি সুরে লিখেছেন ট্রাম্প।
এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন তেহরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের, যা কার্যকর হলে ওলটপালট করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ককে।
বেইজিং সরাসরি ইরানে অস্ত্র পাঠায় না, তবে দেশটিকে সরবরাহ করে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি।
১৪ ও ১৫ মে শির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসার কথা ট্রাম্পের। এর আগেই দুই নেতার মধ্যে হলো এই চিঠি চালাচালি।
এই বৈঠকটি এমন একসময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যকার সম্পর্ক ইরান যুদ্ধের কারণে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। এ যুদ্ধের ফলে পিছিয়ে গিয়েছিল তাদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি।

