মসজিদে হামলার ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে কিশোরী গ্রেপ্তার

মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে এক কিশোরী। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনায় হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার এবং হামলাকারীদের শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী লেখা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মামলায় তিনটি হত্যাকাণ্ড ও একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের নথিতে কিশোরীকে ‘সারাহ এল. সান্তিয়াগো’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ফোরসাইথ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি জিম ও’নিল উইনস্টন-সালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার একটি গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। বুধবার এ খবর প্রকাশ করেছে এপি ও সিএনএন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হামলার আগে সান্তিয়াগো হামলাকারীদের সঙ্গে হামলার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার, তা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়ার দাবি করা একটি ইশতেহার প্রকাশের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, হামলার পর এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নেও সহায়তা করেন তিনি।
ও’নিল বলেছেন, উত্তর ক্যারোলিনার আইনে কেউ নিজ হাতে অপরাধের সব কাজ না করলেও অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার প্রমাণ থাকলে তাকে অপরাধের জন্য দায়ী করা যেতে পারে।
তবে সান্তিয়াগোর আইনজীবী অ্যালান
দোরাসামি তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান,
সান্তিয়াগো অপ্রাপ্তবয়স্ক। তদন্তের নথিপত্রও তিনি পুরোপুরি হাতে পাননি। ফলে
মামলার প্রমাণ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, এসব অভিযোগে তার
মক্কেল নির্দোষ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মে ২০২৬ সান দিয়েগোর একটি ইসলামিক সেন্টারে হামলা চালায় ১৭ বছরের কেইন ক্লার্ক ও ১৮ বছরের ক্যালেব ভাসকেজ। হামলার পর আত্মহত্যা করেন দুজনই। হামলায় নিহত হন আমিন আবদুল্লাহ, নাদির আওয়াদ ও মনসুর কাজিহা।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, হামলার আগে সান্তিয়াগো ভাসকেজকে সনেনরাড প্রতীকযুক্ত একটি প্যাচ কিনে পাঠিয়েছিলেন। হামলার সময় ভাসকেজ সেটি পরেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সনেনরাডকে নব্য নাৎসি ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত একটি ঘৃণার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মসজিদে হামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তিনটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পিস্তল, রাইফেল ও শটগান রয়েছে। এছাড়া একটি ক্রসবো, কৌশলগত সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ গুলি এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে উগ্রপন্থী মতাদর্শের আদান-প্রদান হয়েছিল। উদ্ধার করা কথিত ইশতেহারে বিভিন্ন জাতি ও ধর্ম নিয়ে উগ্র বক্তব্য এবং ঘৃণাত্মক ভাষার সন্ধান পাওয়া গেছে। হামলায় ব্যবহৃত একটি অস্ত্রেও ঘৃণাত্মক বক্তব্য লেখা ছিল বলে জানান কর্মকর্তারা। হামলাকারীদের একজনের রেখে যাওয়া আত্মহত্যার নোটেও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের কথা লেখা ছিল বলে জানানো হয়েছে।
উত্তর ক্যারোলিনার এফবিআই কার্যালয়ের কর্মকর্তা রেইড ডেভিস জানান, প্রযুক্তির আড়ালে থেকে কেউ অপরাধের দায় এড়াতে পারবে না। মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেললে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করবে।








