ঘুসি মেরে হাঙরকে পরাস্ত করলেন নারী

শিশুকন্যা অগাস্টকে কোলে নিয়ে শুয়ে আছেন লিয়া স্টুয়ার্ট। ছবি: সংগৃহীত
হাঙরটি যখন মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার দূরে, তখন সামনে ছিল ভয়ংকর এক দৃশ্য। বিশাল সাদা হাঙরের কালো চোখ আর ধারালো দাঁত। মুহূর্তেই তাকে পানির নিচে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করল প্রাণীটি।
কিন্তু মৃত্যুর কাছে হার মানেননি অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ৩৪ বছর বয়সী লিয়া স্টুয়ার্ট। নিজের এক বছরের শিশুকন্যার কথা মনে করে হাঙরটির মুখে একের পর এক ঘুসি মেরে তাকে পরাস্ত করেন।
তার ভাষায়, সেই লড়াই ছিল ‘ডাইনোসরের সঙ্গে লড়াইয়ের মতো’।
জুনে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কুগি বিচে সাঁতার কাটার সময় এমনই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন স্টুয়ার্ট। প্রায় ৪ মিটার লম্বা একটি গ্রেট হোয়াইট হাঙর তার উরু ও দুই হাতে কামড় দেয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা বলেছেন তার বাঁ হাত কেটে ফেলতে।
গত রবিবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট তুলে ধরেন সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের কথা। তিনি বলেছেন, ‘ওর মুখটা ছিল ভয়ংকর। ছোট ছোট কালো পুঁতির চোখ, বিশাল দাঁত আর মুখ।’
স্টুয়ার্ট জানিয়েছেন, তবুও তার মাথা ঠান্ডা ছিল। তবে একপর্যায়ে হাঙরটিকে বাম হাতে ঘুসি মারার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু হাঙরটি তার বা বাহুতে কামড় দেয়। এতে চামড়া, মাংস, সব ছিঁড়ে যায়। তার হাতের মুঠো আর বাহুর মাঝখানে তৈরি হয় ফাঁকা জায়গা।
এরপর হাঙরটি তাকে পানির নিচে টেনে নিতে শুরু করে। একই সঙ্গে তার পায়েও কামড় বসায়। তখন স্টুয়ার্টের মনে হয়, এটাই হয়তো তার মৃত্যুর মুহূর্ত।
কিন্তু ঠিক তখনই তার মনে পড়ে যায় নিজের শিশুকন্যা অগাস্টের কথা। নিজের মেয়েটি মাকে ছাড়া বড় হবে, এই ভাবনাই স্টুয়ার্টকে আবার লড়াই করার শক্তি দেয়।
শিশুকন্যা অগাস্টের কথা স্মরণ করে স্টুয়ার্ট বলছিলেন, ‘আমি জানতাম, আমি তাকে ছেড়ে যেতে পারি না।’ এরপর নিজের সব শক্তি দিয়ে হাঙরটির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন তিনি।
হাঙরটিকে ঘুসি মারা তার কাছে ইটের দেয়ালে ঘুসি মারার মতো মনে হচ্ছিল। তবু থামেননি। একপর্যায়ে তার একটি ঘুসি হাঙরের শরীরে জোরে লাগে। এরপর প্রাণীটি তাকে ছেড়ে দেয়।
পরে তীরে থাকা অন্য সাঁতারুরা স্টুয়ার্টকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে কোমায় রাখা হয়। এরপর প্রায় এক ডজন অস্ত্রোপচার করা হয় তার শরীরে।
সূত্র : বিবিসি








