নেপালে আরএসপি নেতার গাড়িতে ৩ গণমাধ্যমের ফটক অবরোধের অভিযোগ

এতে কয়েক ঘণ্টা সংবাদকক্ষের কার্যক্রম ব্যাহত হয়
কাঠমান্ডুর তিনটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সোমবার সকালে সন্দেহজনকভাবে গাড়ি রেখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েক ঘণ্টা সংবাদকক্ষের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ ঘটনায় স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে সমন্বিতভাবে এ কাজ করা হয়েছে বলে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যম কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউ বানেশ্বরের অনলাইনখবর, মিড-বানেশ্বরের হিমালয়া টেলিভিশন এবং টিনকুনের কান্তিপুর মিডিয়া গ্রুপের প্রধান ফটকের সামনে চালকরা ইচ্ছাকৃতভাবে যানবাহন রেখে পালিয়ে যান। এতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
কান্তিপুরে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী রমেশ থুয়াজু জানিয়েছেন, সকাল ৭টার দিকে মুখে মাস্ক ও চোখে কালো সানগ্লাস পরা এক ব্যক্তি সেখানে এসে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রধান ফটকের ঠিক সামনে গাড়ি রাখতে জোরাজুরি করেন।
থুয়াজু বললেন, ‘তিনি বলেছিলেন, ভেতরে তার এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। আমি তাকে অন্য জায়গায় গাড়ি রাখতে বলেছিলাম, কারণ সেখানে গাড়ি রাখা যাবে না। কিন্তু তিনি আমার কথা উপেক্ষা করে গাড়ি রেখে দৌড়ে চলে যান।’
থুয়াজুর ভাষ্য, গাড়ি রেখে যাওয়ার আগে ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন।
কান্তিপুরের সামনে ফেলে যাওয়া ‘বা প্রদেশ ০১-০৩৪ চ ৮৪৮০’ নম্বরের গাড়িটি পরে রৌতহাট জেলার গরুডা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী রবি জয়সওয়ালের ব্যবহৃত বলে শনাক্ত করা হয়। তিনি ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টির কেন্দ্রীয় গবেষণা ও নথিপত্র বিভাগের সদস্য।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর জয়সওয়াল ওই বিভাগে মনোনীত হন।
জয়সওয়াল স্বীকার করেন, গাড়িটি তার। তবে দাবি করেন, অন্য একজন সেটি নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কান্তিপুরকে বললেন, ‘এটা আমার গাড়ি। গতকাল আমার এক বন্ধু ধার নিয়েছিল। তার ফোন এখন বন্ধ। আমি এখনই গিয়ে গাড়িটি নিয়ে আসতে পারছি না।’
হিমালয়া টেলিভিশন ও অনলাইনখবরের গ্রুপ সম্পাদক উমেশ চৌহান ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে বলেছেন, সমন্বিতভাবে এমন ঘটনা ঘটানো সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
চৌহান বলেছেন, ‘কে এ কাজ করেছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। তবে উদ্দেশ্যটাও স্পষ্ট মনে হচ্ছে। বার্তাটি সম্ভবত এটাই যে, গণমাধ্যম যদি প্রশ্ন তোলা অব্যাহত রাখে, তাহলে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।’ ব্যস্ত সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পরও পুলিশ কেন ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
কাঠমান্ডু ভ্যালি ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ের প্রধান জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার সুরেশ কাফলে বলেছেন, কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবি করেছেন, তাদের অজান্তে চালকেরা গাড়িগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বললেন, ‘ঘটনায় জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করা হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেখানোর এ সন্দেহজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। নেপাল সাংবাদিক ফেডারেশন এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, কান্তিপুর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ অবরোধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি তাদের এক নেতার মালিকানাধীন— এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টিও সোমবার এক বিবৃতি দিয়েছে।
দলটির মহাসচিব বিপিন কুমার আচার্যের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে বা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা খর্ব করার উদ্দেশ্যে যেকোনো অজুহাতে সংঘটিত কোনো কর্মকাণ্ড দলটি গ্রহণ করবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো বা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত এ ধরনের ‘সন্দেহজনক ও রহস্যজনক’ কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।






