রাইড-শেয়ারিং চালক গণেশ নেপালির মৃত্যুর দায় কার?

পার্কিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার মোটরসাইকেল লক করে দেওয়া হয়েছিল
নেপালে বৃহস্পতিবার ২৫ বছর বয়সী রাইড-শেয়ারিং চালক গণেশ নেপালির সঙ্গে কাঠমান্ডু মহানগর পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর পর দুপুর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে ত্রিপুরেশ্বরে পাসপোর্ট বিভাগের সামনে নিজের গায়ে আগুন দেন। তিন লাখ রুপি মোটরসাইকেল ঋণের বোঝা বহন করা নেপালি পরদিন দগ্ধ হয়ে মারা যান। ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ ছিল পার্কিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার মোটরসাইকেল লক করে দেওয়া। তবে তার পরিবারের দাবি, মহানগর কর্তৃপক্ষের বারবার জরিমানা ও হয়রানিই তাকে হতাশার চরম পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছিল। মৃত্যুর আগে ভাইকে বলা তার শেষ কথা, ‘সবকিছুর জন্য এই মহানগরই দায়ী’, এখন কাঠমান্ডুর নগর প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক হৃদয়বিদারক অভিযোগে পরিণত হয়েছে।
পুলিশ তিনজন মহানগর পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে এই ট্র্যাজেডির দায় শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন একটি ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে, যেখানে পৌর আইন প্রয়োগ ক্রমেই জনসেবার পরিবর্তে জবরদস্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাঠমান্ডুর মহানগর পুলিশ পথের বিক্রেতা, বর্জ্য সংগ্রহকারী এবং গিগ অর্থনীতির কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের জন্য সমালোচিত হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান এবং সম্পত্তি জব্দের ঘটনাও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য সামনে এনেছে। ২০২৩ সালে উদ্যোক্তা প্রেম প্রসাদ আচার্য সংসদ ভবনের সামনে আত্মাহুতি দিলে বালেন্দ্র শাহ ও রবি লামিছানেসহ অনেক নেতা প্রকাশ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমালোচনা করেছিলেন এবং নৈতিক দায় স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু আজ ক্ষমতার অবস্থানে থাকা এই দুই ব্যক্তির নেপালির মৃত্যুর বিষয়ে নীরবতা একসময় যে জবাবদিহির দাবি তারা তুলেছিলেন, তা পরিত্যাগ করার অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
যদিও সাংবিধানিক ও আইনি বিধানের আওতায় মহানগর পুলিশ পরিচালিত হয়, সমালোচকদের মতে তাদের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তদারকি ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। নেপাল পুলিশের মতো মহানগর পুলিশের সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রেই সমপর্যায়ের আইনি প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি ব্যবস্থার আওতায় নেই। তবুও তারা ক্রমেই এমন আইন প্রয়োগমূলক দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরাসরি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
গণেশ নেপালির মৃত্যু শুধু একটি তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সংঘাত নিরসনের প্রশিক্ষণ চালু করা, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবীদের আইনি সুরক্ষা জোরদারের দাবি জানায়। ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি আধুনিক শহর পরিচালনা করা যায় না। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের মর্যাদা, সম্পত্তি ও জীবিকার সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে কাঠমান্ডুকে।
কাঠমান্ডু পোস্ট থেকে অনূদিত।




