নেপালে ১০ দিন পর এবার ৬৪ বছর বয়সী নারী জীবিত উদ্ধার

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়ার ১০ দিন পর শনিবার এক চীনা নাগরিকের পর একইদিনে এবার ৬৪ বছর বয়সী এক নেপালি নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বিদুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৯ সদস্যের একটি দল তাকে উদ্ধার করে। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে নেপালি সেনাবাহিনীর ত্রিশুলিতে অবস্থিত মৈথিলী ব্যারাকে হেলিকপ্টারে করে নেওয়া হয়।
এদিকে, এর আগে লুহাইতাও নামের এক চীনা নাগরিককে আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলের প্রায় ২২৫ মিটার (৭৩৮ ফুট) ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। নেপালি সেনাবাহিনী ও বিদেশি উদ্ধারকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে মেডিকেলে নেওয়া হয়।
আপার ত্রিশুলি-১ প্রকল্পে আটকে পড়েছেন বলে ধারণা করা অন্যদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে শুক্রবার ত্রিশুলি-৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকেও দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার (১৭ হাজার ৬০ ফুট) উচ্চতায় একটি হিমবাহ ভেঙে যায়। এর ফলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস সৃষ্টি হয়ে তা পরবর্তী সময়ে ভয়াবহ ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হয়। স্রোতটি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন উপত্যকা দিয়ে নেমে গিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের রাসুয়া, নোয়াকোট, ধাদিং ও কাভ্রে জেলা এবং কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই দুর্যোগে চীনের শিজাং অঞ্চলের গিরং সীমান্ত ক্রসিংও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৫ জনে। দুর্যোগের ১০ দিন পরও ৫ হাজার ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।






