মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো শুরু

ফাইল ছবি
গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো শুরু করেছে মালয়েশিয়া। গতকাল মঙ্গলবার দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করেছে মালয়শিয়া সরকার। যদিও এই উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘসহ অন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মালয়েশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে পুলিশি পাহারায় পৌঁছায় কয়েক ডজন বাস। বাসের যাত্রীদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নৌঘাঁটিতে নেওয়া হয়। এরপর জাহাজে করে মিয়ানমারে পাঠানোর কথা রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী বেষ্টিত ওই এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি সাংবাদিকদের।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গত জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। সেই সূত্র ধরে গতকাল এই প্রথম দফার প্রত্যাবাসন শুরু করে কুয়ালালামপুর।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ফেরত পাঠাতে ব্যবহার করা হবে মিয়ানমারের দুটি নৌযান ও একটি হাসপাতাল জাহাজ।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এ কার্যক্রমে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
রয়টার্সকে ইউএনএইচসিআর বলেছে, যেকোনো শরণার্থীর প্রত্যাবর্তন অবশ্যই স্বেচ্ছায় হতে হবে এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে তা সম্পন্ন করতে হবে। তবে এ বিষয়ে মুখ খোলেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা আগে দেওয়া নিজেদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, প্রত্যাবর্তন স্বেচ্ছামূলক।
তবে মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, আটক অবস্থায় থাকা ব্যক্তিরা যে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সত্যিই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন কি না।
রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিলের সহসভাপতি নায় সান লুইন আলজাজিরাকে বলেছেন, মিয়ানমারে সংঘাত এখনো চলছে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোকে ‘প্রত্যাবাসন’ বলা যায় না।
তিনি আরও বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে এবং এর মধ্যে রোহিঙ্গারা দুপক্ষের সংঘাতের মাঝখানে পড়ে গেছে। তার অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালাচ্ছে উভয়পক্ষই।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় মিয়ানমার থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার; তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই রোহিঙ্গা।
মিয়ানমারে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে চলছে গৃহযুদ্ধ। সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল এখনো অস্থিতিশীল। রাখাইন রাজ্যের বড় অংশও বর্তমানে সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যে রয়েছে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বারবার দমনপীড়ন চালিয়েছে দেশটির রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের সহিংসতার পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে।



